করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার উপায় – কিভাবে নিরাপদে থাকবেন

করোনা ভাইরাস কী
করোনা এক ধরনের সংক্রামক ভাইরাস। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির নাম দিয়েছেন “2019 novel coronavirus (2019-nCoV)”। সংক্ষেপে “করোনা ভাইরাস “।ভাইরাসটি প্যাথোজেন পরিবারের। মার্স ও সার্স সমগোত্রীয় ভাইরাস। বর্তমান বিশ্বে করোনা মহামারি রূপ লাভ করেছে এবং এটি একটি আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা ভাইরাসের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

কিভাবে করোনা ভাইরাস ছড়ায়

-আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে
-আক্রান্ত প্রাণী থেকে
-বাতাসের মাধ্যমে
-সংক্রামিত বস্তুকে স্পর্শ করলে
-পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে

করোনা ভাইরাসের লক্ষ্মণ

-গলা ও মাথা ব্যাথা হলে
-সর্দি, কাঁশি ও জ্বর (১০০ডিগ্রী ফারেনহাইট/৩৮ডিগ্রী সেন্টিগ্রেট এর বেশী) হলে
-শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে

যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে

১.বিদেশি পর্যটক
২.বয়স্ক ব্যক্তিবর্গ
৩.শিশু-কিশোর
৪.ধুমপায়ী ব্যক্তিগণ

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে করণীয়

যেহেতু এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা টিকা আবিস্কৃত হয়নি তাই সচেতনতাই বর্তমানে এর প্রধান প্রতিরোধক।
-ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করুন। উভয় হাত, হাতের কব্জি পর্যন্ত উভয় পাশ ও নখসহ।সাবান ও পানি দিয়ে ভালো করে হাত পরিষ্কার করুন। (৪০-৬০সেকেন্ড) অথবা অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন। (২০-৩০সেকেন্ড)
– হাঁচি-কাশির ক্ষেত্রে নিয়মগুলো মেনে চলুন। হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় হাতের কনুই এর ভাঁজে বা টিস্যু দিয়ে মুখ ও নাক ঢাকুন। এবং টিস্যুটি বন্ধ বিনে ফেলুন ও হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। 
-অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ থেকে  বিরত থাকুন।
-হাঁচি-কাশি, জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ১মিটার বা ৩ফুট দূরে থাকুন।
-অসুস্থ পশু/পাখির সংস্পর্শে আসা থেকে বিরত থাকুন।
-মাছ,মাংস  ভালোভাবে রান্না করে খান।
-ভির এরিয়ে চলুন।ভিড়ে যেতে হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। 
-ঘরের কিছু জিনিস চিহ্নিত করুন যা শুধু বাইরেই ব্যবহার করবেন।
-যেখানে সেখানে কফ-থুথু,পানের পিক,কুলি করা পানি ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
-জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।

করোনা হটলাইন নম্বর

নিজের বা পরিবারের কারো করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিলে”ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ ” আইইডিসিআরে যোগাযোগ করুন। 
+8801937000011
+8801937110011
+8801927711784
+8801927711785

করোনা ভাইরাস সম্পর্কে ইসলাম কি বলে


করোনা ভাইরাসটি বর্তমানে একটি আতঙ্কের বিষয়। এ পৃথিবীতে যত বিপর্যয় হয় তার মূলে থাকে মানুষের সীমালঙ্ঘন ও অপকর্ম।
নবী করিম রাসূল (সাঃ)বলেন -“যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী এবং এমন সব রোগ-ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে যা পূর্বে কোনো লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।”

রাসূল (সাঃ) আরও বলেছেন-“যখন তোমার কোনো অঞ্চলে মহামারী বিস্তারের সংবাদ পাও, তখন সে এলাকায় প্রবেশ করোনা।আর তোমার যেখানে অবস্থান কর, সেখানে মহামারী বিস্তার ঘটলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেওনা।”-সহীহ্ বুখারীর

আয়িশা (রাঃ)থেকে বর্ণিত- “আমি একবার  নবী করিমকে মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে বললেন, এটা একটা আজাব।তিনি যার উপর ইচ্ছা পাঠান।কিন্তু এটা মুমিনগণের জন্য রহমত।তোমাদের মধ্যে যে লোক মহামারী এলাকায়  সবুরের সাথে অবস্থান করে এবং আস্থা রাখে যে আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাই হবে,তাছাড়া কিছু হবে না,  তার জন্য রয়েছে শহীদের সওয়াব”।-সহীহ বুখারী।

মুসনাদে আহমেদ আবূ আসীব থেকে বর্ণিত -রাসুল (সাঃ) বলেছেন -” মহামারী হলো মুমিনদের জন্য শাহাদাত এবং রহমত স্বরূপ আর কাফিরদের জন্য শাস্তি স্বরূপ”।

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য দোয়া


করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে কীভাবে চলতে হবে এ সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা রয়েছে। এসব দিক নির্দেশনা মানার পাশাপাশি বিশ্বাস করতে হবে যে, কোনো বিপদ হলে আল্লাহ তাআ’লার ইচ্ছাতেই হবে আবার বিপদমুক্ত হলে তাও আল্লাহ তাআ’লার ইচ্ছাতেই হবে। হাদিস শরিফে যে সকল বিপদমুক্তির দোয়া আছে তা পাঠ করতে হবে।
-আল্লাহুম্মা ইন্নি আঊযজুবিকা মিনাল বারাছি ওয়াল যুনুনি ওয়াল যুজাম ওয়ামিন ছাইয়িল আছক্বাম।
অর্থ- “হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট ধবল, উন্মাদ, কুষ্ঠরোগ এবং সকল কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”-(আবু দাঊদ, তিরমিজি)
-আল্লাহুম্মা ইন্নি আঊজুবিকা মিন মুংকারা-তিল আখলা-ক্বি ওয়াল আ’মা-লি ওয়াল আহওয়াই ওয়াল আদাওয়া।
অর্থ-“হে আল্লাহ!  অবশ্যই আমি তোমার নিকট দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম, কুপ্রবৃত্তি এবং কঠিন রোগসমূহ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি”।-(তিরমিজি)
আতঙ্ক নয়, এক মাত্র সচেতনতাই পারে সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করতে তাই নিজে সর্তক থাকুন আর অন্যকেও এ বিষয়ে সচেতন করুন।



বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি – এ পর্যন্ত কতজন আক্রান্ত এবং নিহত জেনে নিন


আপনি কি জানেন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে? আপনি কি বিশ্বের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন?

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজনকে শনাক্ত হয়েছে। তিনজনের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। তাদের দুইজন ইতালি থেকে বাংলাদেশে এসেছেন।

বাংলাদেশে কতজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত

** দেশে ৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত: আইইডিসিআর।
** এদের মধ্যে ২ জন পুরুষ ও একজন নারী। ** ৩ জনের মধ্যে ২ জন ইতালি ফেরত বাংলাদেশি।
** হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাদের।

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে এসেছে?

এরইমধ্যে পৃথিবীজুড়ে তৈরি করেছে আতঙ্ক। চীনে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০০০ জন মারা গেছে।

কী এই ভাইরাসের লক্ষণ, চিকিৎসাই বা কী? এ নিয়ে বিবিসি’র এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, রোগীদের শরীরে নিউমোনিয়া তৈরি করছে, এমন একটি ভাইরাস সবসময়েই উদ্বেগজনক। ফলে সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চরম সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

কিন্তু এটা কি আজকালের একটি প্রাদুর্ভাব নাকি আরো বিপজ্জনক কোন রোগের লক্ষণ?
Updated: March 9, 2020 — 5:01 pm

The Author

শাহরিয়ার হোসেন

শাহরিয়ার হোসেন একজন ক্ষুদ্র ব্লগার। লিখতে খুব ভালোবাসেন। অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগে ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে লিখছেন। কাজের চেয়ে নিজের নাম প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। সে চিন্তা থেকেই এই ব্লগের উৎপত্তি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স কমপ্লিট করেছেন। বর্তমানে একই বিভাগে মাস্টার্স এ অধ্যায়নরত।