চুলের যত্ন – ছেলে ও মেয়ের চুলের যত্নের সকল তথ্য

চুল সৌন্দর্যের একটি অপরিহার্য অংশ। সুন্দর চুল আপনার সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করে তোলে। চুল সুন্দর করতে প্রাচীনকাল থেকেই নানা ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

ত্বকের মতো চুলেরও বিভিন্ন ধরন হয়ে থাকে। ধরন বুঝে পরিচর্যা না করলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হবে তাই চুলের ধরন অনুযায়ী পরিচর্যা করা উচিত। চুলের পরিচর্যায় আপনাকে প্রথমেই যে টি লক্ষ রাখতে হবে সেটি হল আপনার চুল যেন সব সময় পরিষ্কার থাকে।

গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরমের কারণে চুলের গোড়া ঘেমে যায় এতে অধিক পরিমাণে চুল পড়ে এবং চুলের গোড়ায় ধুলাবালি আটকে যায়। তাই আপনি বাইরে থেকে এসে অবশ্যই চুল পরিষ্কার করবেন।

আপনার চুলটাকে বেঁধে অথবা মাথার স্কাপ ব্যবহার করে বাইরে যাবার চেষ্টা করুন। এতে আপনার চুল অনেকটাই ধুলাবালি থেকে মুক্ত থাকবে। পরিমিত পানি পান করার চেষ্টা করুন। পরিমিত পানি পান আপনার চুল পড়া থেকে আপনাকে রক্ষা করবে।

চুল পড়া কমায় এবং চুলের জন্য উপকারী এমন খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করুন। লক্ষ্য রাখবেন যেন আপনার খাদ্যতালিকায় গ্রীষ্মকালীন দেশীয় ফল অন্তত একটি হলেও থাকে। নিয়মিত দিনে তিন থেকে চার বার চুল চিরুনি করুন। এটি আপনার চুলের ত্বকের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে এবং আপনার চুল পড়া কমায়।

ভেজা চুল কখনোই চিরুনি করবেন না কারণ ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম থাকে এতে চুল পড়ে।মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন।

চুলের পরিচর্যায় তেল অপরিহার্য। এটি আপনার চুলের রুক্ষতা দূর করে। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চুলে তেল লাগান। তেল লাগানোর আগে হালকা গরম করে নিন এবং আপনার মাথার ত্বকে ভালো ভাবে মাসাজ করুন এবং পরদিন শ্যাম্পু করুন।ক্যাস্টার অয়েল, নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল একত্রে চুলে লাগালে ভালো ফল পাবেন।

শ্যাম্পু ব্যবহার

আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। আপনার চুলের পরিমাণ অনুযায়ী শ্যাম্পু, দুই চামচ চিনি, এক চামচ লেবুর রস, এক চামচ গোলাপ জল নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন এবং তো চলে লাগান পাঁচ মিনিট মাসাজ করুন এবং ধুয়ে ফেলুন।

যাদের স্বাভাবিক চুল তারা একদিন পর পর শ্যাম্পু করুন আর রুক্ষ চুলের অধিকারীগণ তিন দিন পর পর শ্যাম্পু করুন। এবং শ্যাম্পুর পর চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।খেয়াল রাখবেন কন্ডিশনার যেন আপনার চুলের ত্বকে না লাগে।

চুলে অর্ধেক থেকে শেষ অংশ পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগান এবং ধুয়ে ফেলুন। কখনোই চুলে বেশিক্ষণ শ্যাম্পু রাখা উচিত নয় এতে চুল রুক্ষ হয়ে যায়

চায়ের লিকার

চায়ের লিকার আপনার চুলে কন্ডিশনারের কাজ করে। গোসল শেষে কিছু পানিতে চায়ের লিকার গরম করে সে পানি ঠান্ডা করে চুল ধুয়ে নিন।

লেবু

লেবু কখনোই সরাসরি চুলে লাগাবেন না। দুই চামচ তেল ও এক চামচ লেবু মিশিয়ে চুলে মাসাজ করে নিন।

মেথি

গোটা মেথি ও কালোজিরা আপনার ব্যবহৃত তেলের কৌটায় রাখুন। মেথির পেস্ট চুলের জন্য উপকারী।

এ্যালোভেরা

এ্যালোভেরা আপনার ত্বকের জন্য যেমন উপকারী তেমনি আপনার চুলের জন্যও। তবে এ্যালোভেরা পাতায় যে হলুদ রস থাকে তা কখনোই লাগাবেন না।এটি খুবই ক্ষতিকর। চুলে সরাসরি এ্যালোভেরা লাগান এবং পরের দিন শ্যাম্পু করুন। এটি আপনার চুলকে মসৃণ করবে।

পেঁয়াজ

পেঁয়াজের রস চুল পড়া কমাতে ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।কলা,পেঁয়াজের রস, কাঁচা দুধ, মধু দিয়ে পেস্ট তৈরি করে চুলে লাগান।

চুল পড়া কমাতে নিম পাতা

নিম পাতা ও মেথির পেস্ট কুসুম গরম করে সপ্তাহে ২-৩ বার চুলে লাগালে চুল পড়া কমে এবং এতে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

চা এবং মেথির হেয়ার প্যাক

তাজা মেহেদি পাতা বেটে এরমধ্যে দুই/তিন টেবিল চামচ চায়ের লিকার দিয়ে সারারাত রাখুন। পরের দিন একটি ডিম, তিন চামচ টক দই, দুই টেবিল চামচ লেবুর রস এবং এক টেবিল চামচ নারিকেল তেল খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে চুলে লাগিয়ে দুই ঘন্টা রাখুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা দূর হবে।

ডিম এবং ক্যাস্টর অয়েল

একটি ডিমের কুসুম, এক টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল, এক টেবিল চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ত্রিশ মিনিট রাখুন। পরে ধুয়ে ফেলুন।এটি সপ্তাহে তিনবার ব্যবহার করুন।

চুল পড়া কমাতে

-তেল দিয়ে নিয়মিত মাথার ত্বক মালিশ করতে হবে
– কলা চটকে মাথা মালিশ করুন
– নিয়মিত আমলকি খেতে হবে
– খুশকি দূর করতে মাথা টক দই লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়
– বেশি করে পানি, শাক ও ফলমূল খেলে চুল পড়া কমবে। বাইরে গেলে শ্যাম্পু করে বেশি পানি দিয়ে চুল ধুতে হবে।
– তিন মাস পর পর চুলের আগা কাটতে হবে।

চুলের যত্নে কয়েকটি হেয়ার প্যাক

-রসুনের ছয়/সাতটি বড় কোয়া, সরিষার তেল বার চামচ, নারিকেল তেল তিন/চার চামচ একত্রে একটি বোতলে সংরক্ষণ করুন। ব্যবহার করার পূর্বে দুই ঘন্টা রোদে রেখে ভালোভাবে মাথার ত্বকে মাসাজ করুন। রাতে দিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলুন এবং সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করুন।
– একটি ডিমের সাদা অংশ, দুই চামচ নারিকেল তেল/ অলিভ অয়েল, এক চামচ মধু, দুই চামচ লেবুর রস, চা চামচ কাঁচা দুধের পেস্ট তৈরি করুন। চুলে দিয়ে চিরুনি করুন এক ঘণ্টা রাখুন। একদিন ব্যবহার করুন। এটি আপনার কোঁকড়া চুলকে কিছুটা হলেও সোজা, মসৃণ ও সুন্দর করতে সাহায্য করবে।
– চুল লম্বা করতে একটি ডিম, দুই চামচ ক্যাস্টর অয়েল একত্রে চুলে লাগিয়ে এক ঘন্টা পর পানিতে একটি লেবু দিয়ে ধুয়ে নিন। এবং সপ্তাহে এটি তিন দিন ব্যবহার করুন।
– একটি কলা, এক চামচ মধু, এক চামচ নারিকেল তেলের পেস্ট এক ঘন্টা করে সপ্তাহে দুই দিন চুলে লাগান। এটি চুল সিল্কি ও চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

শাহরিয়ার হোসেন

শাহরিয়ার হোসেন একজন ক্ষুদ্র ব্লগার। লিখতে খুব ভালোবাসেন। অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগে ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে লিখছেন। কাজের চেয়ে নিজের নাম প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। সে চিন্তা থেকেই এই ব্লগের উৎপত্তি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স কমপ্লিট করেছেন। বর্তমানে একই বিভাগে মাস্টার্স এ অধ্যায়নরত।

Related Articles

Back to top button
Close
Close