মেয়েদের ইসলামিক নাম – সব অক্ষর দিয়ে আরবি নাম অর্থসহ

মেয়েদের সুন্দর ইসলামিক নাম

নাম কি

কোনো মানুষকে অপর মানুষ থেকে পৃথক করার জন্য প্রাচীনকাল থেকে যে পদ্ধতিকে অবলম্বন করা হয় তাকে নাম বলে। সহজ কথায়, মানুষ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাকে দেখার জন্য ব্যবহার করে তাই নাম।

ইসলামে নাম রাখার গুরুত্ব

কোন মানুষের পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক মাধ্যম হচ্ছে তার নাম ।তাই ইসলামে সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সুন্দর অর্থ দেখে সন্তানের নাম রাখা পিতা-মাতার একটি বিশেষ দায়িত্ব। মাতার প্রতি এটি সন্তানের একটি হক। নাম রাখার ব্যাপারে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সন্তান জন্মের সাত দিনের মধ্যে সন্তানের উত্তম ও সুন্দর অর্থবোধক নির্দেশ দিয়েছেন।-(তিরমিজি)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)ও আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত- রাসূল (সাঃ) বলেছেন- সন্তানের সুন্দর নাম রাখা ও তার উত্তম তারবিয়াতের ব্যবস্থা করা বাবার উপর সন্তানের হক।-(মুসনাদে বাযযার, হাদিস:৮৫৪০)
তিনি আরো বলেছেন- কেয়ামতের দিন তোমাদের নিজ নাম ও তোমাদের পিতার নাম ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখো।-( আবু দাউদ)
ইসলামে ভালো নাম রাখার পাশাপাশি মন্দ নাম রাখা থেকে বিরত থাকা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামে নামের গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। যেমন-
-আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে যাকারিয়া, আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি। তাঁর নাম হবে ইয়াহিয়া। এই নামে আগে আমি কারো নামকরণ করিনি।-( সূরা মারিয়াম, আয়াত:৭)
– সুন্দর অর্থবহ নাম রাখার প্রতি রাসূল (সাঃ) খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন। আল্লাহ তা’য়ালার নামের সাথে যুক্ত করে তার বান্দাদের নাম রাখা উত্তম।
-কাফের, মুশরিক ও পাপীদের নাম অনুসারে সন্তানের নামকরণ করা হারাম।
নামের মাধ্যমে একজন মানুষের শুধু পরিচয়ই প্রকাশ পায় না বরং এটি তার চিন্তা-চেতনা, রুচি -অভিরুচিও প্রকাশ ঘটায়। সুন্দর নাম একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলে।
অহংকার ও নিজের বড়ত্বের দিকে ইঙ্গিত থাকায় নবীজী(সাঃ) কিছু কিছু নাম অপছন্দ করতেন।
একজন অপরজনের নাম সম্পর্কে অবগত হওয়া মুসলিম ভ্রাতৃত্বের দাবি।তাই সন্তানের এমন নাম রাখা উচিত নয়, যা বলতে মানুষ লজ্জাবোধ করে।
রাসূল (সাঃ) বলে বলেছেন- সন্তানের নাম আফলাহ, রাবাহ,ইয়াসার,নাজীহ রেখো না।কারণ তুমি জিজ্ঞেস করবে সে কি ঘরে আছে? অনুপস্থিতি থাকলে উত্তর দেয়া হবে -না।-সুনানে আবু দাউদ

মেয়েদের সুন্দর ইসলামিক নাম অর্থসহ

ধরুন, কোন ব্যক্তির নাম রাখা হল- ইয়াসার। ইয়াসার অর্থ- প্রাচুর্য, সুখ, সহজ। আর কেউ জানতে চাইলো- ঘরে কি ইয়াসার আছে? উত্তর দেয়া হলো- না, নেই। ঘরে সুখ ও প্রাচুর্যের উপস্থিতিকে অস্বীকার করে বলা হচ্ছে, ঘরে সুখ ও প্রাচুর্য নেই। এ কারণেই নবীজি(সাঃ) এ ধরনের নাম অপছন্দ করতেন এবং সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।
আমাদের ইসলামে নানাভাবে আমাদের বোঝানো হয়েছে যে আমরা যেন আমাদের সন্তানদের রাখার সময় অর্থের দিকে খেয়াল রাখি।
Updated: March 9, 2020 — 10:57 am

The Author

শাহরিয়ার হোসেন

শাহরিয়ার হোসেন একজন ক্ষুদ্র ব্লগার। লিখতে খুব ভালোবাসেন। অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগে ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে লিখছেন। কাজের চেয়ে নিজের নাম প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। সে চিন্তা থেকেই এই ব্লগের উৎপত্তি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স কমপ্লিট করেছেন। বর্তমানে একই বিভাগে মাস্টার্স এ অধ্যায়নরত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *