কবরের আজাব গজল, মুক্তির দোয়া ও ভিডিও দেখুন

কবর জীবন

ইহকাল অর্থাৎ দুনিয়াবী জীবন এবং আখিরাত অর্থাৎ মৃত্যুর পরের জীবন এর মধ্যবর্তী সময় কালকে বলে বারযাখ বা কবরের জীবন । কবরের জীবনে প্রতিটি ইনসান তাদের আমল অনুযায়ী শাস্তি অথবা পুরস্কার পাবে।

মানুষের মৃত্যুর পর তাকে দাফন করা হোক বা আগুনে পোড়ানো হোক অথবা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হোক যাই করা হোক না কেন তাকে কবরের প্রাপ্য শাস্তি পেতে হবে।

কবরের আজাব কি

মৃত্যুর পর পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত কোন বান্দাকে দুইটি ফেরেশতা দ্বারা শাস্তি দেওয়া হয় যা কবরের আজাব নামে পরিচিত। কোনো বান্দা যদি ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করে এবং তার আমলনামা যদি ভালো হয় তাহলে তার কবর নুর দিয়ে আলোকিত হবে।

আর বান্দা যদি কাফের, মুশরিক,পাপী হয় তাহলে তার কবর অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে এবং কবরের মধ্যে সাপ ,বিচ্ছু ,পোকামাকড় প্রভৃতির দংশন শুরু হবে।

কবরের ভেতরে মুনকার নাকির নামক দুই ফেরেশতা বান্দাকে কে ৪ টি‌ প্রশ্ন বান্দাকে জিজ্ঞাসা করবে।

প্রশ্ন গুলো হলো;
প্রথম প্রশ্ন: তোমার রব কে?
উত্তর:আল্লাহ
দ্বিতীয় প্রশ্ন:তোমার দ্বীন কি?
উত্তর: ইসলাম।
তৃতীয় প্রশ্ন:তোমার নবী কে?
উত্তর:হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)
চতুর্থ প্রশ্নঃ তুমি এগুলো কোথা থেকে জানলে?
উত্তরঃ কুরআন থেকে।

মুনকার নাকিরের প্রশ্নগুলোর জবাব শুধু মাত্র ঈমানদার বান্দাই দিতে পারবে।কাফির,মুনাফিক,মুশরিকরা সেই মুহূর্তে ইয়া নফসী ইয়া নফসি করবে।

বলবে আমি তো কিছুই জানিনা,আমি তো কিছুই জানিনা। কাফির মুশরিকদের আযাব এখান থেকেই শুরু হইয়ে যাবে।

কবরের আযাবের সত্যতা এবং যৌক্তিকতা

কবরের আযাব অনিবার্য সত্য।কুরআন এবং হাদিস অনেক জায়গা তেই প্রমাণ এসেছে এবং স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর পুনরুত্থান পর্যন্ত বান্দাকে তার কর্ম অনুযায়ী শাস্তি অথবা পুরষ্কার দেয়া হবে।

পবিত্র কুরআনের সূরা তওবার ১০১ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে –
অচিরেই আমি(আল্লাহ) তাদের দুইবার আযাব দিবো।তারপর তাদের নিয়ে যাওয়া যাওয়া হবে ভয়ঙ্কর আজাদ এর দিকে।

এক হাদীসে এসেছে মৃত ব্যক্তিকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, বলো ইনি কে? কাফের ব্যাক্তি উত্তর দেবে, আমি জানিনা।

তখন তাকে প্রশ্ন করা হবে তুমি কি উপলব্ধি করোনি কিংবা জানতে পারোনি? এবং তাকে লোহার হাতুড়ি দ্বারা পেটানো হবে যা মানব ও দানব ছাড়া আশে পাশের সবকিছু শুনতে পাবে(বুখারি হাদিস:১৩৩৮)।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায় দোয়া করতেন -হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই( বুখারি হাদিস-২৮২২)

এসকল দলিল এবং প্রমান দেখিয়ে আমরা কবরের আজাব সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। অর্থাৎ প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে তার আমল বা দ্বীন অনুযায়ী কবরে প্রাপ্য শাস্তি পেতে হবে।

কবরের আযাব কত ধরনের?

কবরের আজাব দুই ধরনের হয়- চিরস্থায়ী আযাব এবং অস্থায়ী আজাব।কাফির ,মুশরিক ,মুনাফিকদের আজাব চিরস্থায়ী হবে; কখনোই থামবে না, চলতেই থাকবে। এমনকি হাশরের ময়দানে ও তাদের আজাব অব্যাহত থাকবে ,আজাব থেকে কোনভাবেই রেহাই পাবে না।

অন্যদিকে ঈমানদার ব্যক্তি তাদের গুনাহের কারণে কবরে যে আজাব প্রাপ্ত হবে সেটাই অস্থায়ী আজাব। তাদের গুনাহের শাস্তি শেষ হলে তাদেরকে আযাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং তাদের ঈমানদারের ফলস্বরূপ জান্নাত উপহার দেওয়া হবে।

কবরের আযাব কি কি কারনে হয়?

কবরে শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ ,কবরে আজাবের বহু কারণ রয়েছে । তবে অবশ্যই মুনাফিকী ,কুফরি, শিরকের কারণে কবরের আজাব হবে।

তাছাড়াও মিথ্যা কথা বলা, সুদ খাওয়া, ব্যভিচার,চুগলখোরি অর্থাৎ একজনের কথা অন্যজনকে বললে ঝগড়া ফ্যাসাদ বাধিয়ে দেওয়া ইত্যাদি কারণে কবরের আজাব সংঘটিত হবে।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন যে, অধিকাংশ কবরের আযাবের কারণ হলো প্রস্রাবের ছিটেফোঁটা। একটি হাদিসে এসেছে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন একটি কবরের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন, হাটার সময় হঠাৎ থেমে গেলেন এবং কবরের উপর একটি খেজুরের ডাল পুঁতে দিলেন দিলেন।

সাহাবাদ্বয় কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলেন:এই কবরে থাকা ব্যাক্তি শাস্তি পাচ্ছে খুব বড় কোন গুনাহের কারণে নয়, প্রস্রাবের ছিটেফোঁটার কারণে।

খেজুরের ডাল পোতার কারন জিজ্ঞাসা করলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই হি ওয়া সাল্লাম উত্তর দেন এই খেজুরের ডাল যতক্ষণ পর্যন্ত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই ব্যাক্তির জন্য জিকির করতে থাকবে।

কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় কি?

দুনিয়ার এ ক্ষুদ্র জীবনে কিছু কিছু আমল এবং কিছু কাজ থেকে বিরত থাকলেই আখিরাতের জীবনে মিলবে পরম শান্তি। কবরের ভয়াবহ আজাব থেকে মিলবে মুক্তি।

কবরের আজাব থেকে রক্ষা পেতে হলে চারটি বিষয়ে আমল এবং চারটি কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকটি মানুষের জন্য খুবই জরুরী মনে হচ্ছে আমল ৪ টি হচ্ছে
১. যথাসময়ে নামাজ আদায়
২. বেশি বেশি সাদকা করা
৩. কুরআন তিলাওয়াত করা
৪. বেশি বেশি তাসবিহ পাঠ করা
এ আমলগুলো কবরের জীবনকে আলোকিত এবং প্রশস্ত করে।

যে চারটি কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে:
১. মিথ্যা না বলা
২. অপরের সম্পদ তথা পরের হক আত্মসাৎ করা থেকে বিরত থাকা
৩. চোগলখুরী না করা
৪. পেশাবের ছিটেফোঁটা থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে উপরোক্ত কাজগুলো করার তৌফিক দান করুন এবং কবরের ভয়াবহ আজাব থেকে রক্ষা করুন।

শাহরিয়ার হোসেন

শাহরিয়ার হোসেন একজন ক্ষুদ্র ব্লগার। লিখতে খুব ভালোবাসেন। অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগে ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে লিখছেন। কাজের চেয়ে নিজের নাম প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। সে চিন্তা থেকেই এই ব্লগের উৎপত্তি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স কমপ্লিট করেছেন। বর্তমানে একই বিভাগে মাস্টার্স এ অধ্যায়নরত।
Back to top button
Close
Close