নতুন কবিদের আধুনিক বাংলা কবিতা – নবীন কবিদের কবিতা সংগ্রহ

লেখকঃ সোহেল সিরাজী

১.
অকবিদের ভাষা বুঝি আমি
কবিদের ভাষা দুর্বোধ্য
কবিতার নামে লিখে রাখে তারা
ছয় আর সাত মিলে হয় চৌদ্দ।

২.
আমি চাষীদের ভাষা বুঝি
শিক্ষিত ক্যাডারদের নয়
ব্যক্তিত্ব আর বক্তৃতার নামে
তারা করে অভিনয়।

৩.
শতবর্ষে একবারই জন্মে
বেহায়া রোদ্দুর রায়!
জাত গেলো জাত গেলো
বলে রবি ঠাকুর চিল্লায়!

৪.
আমার ভাষা আমাকে দিয়েছে
কথা বলার আশকারা
দূরে থাকো ভালো থাকো
রবি ঠাকুরের বাচ্চারা!

৫.
মনের কথা বলতে মুখে
লাশ হলো রফিক জব্বার
তবু কথার ভাজে কথা লুকিয়ে
কাটছে জীবন সব্বার!

৬.
যা কবি ক মুখের উপর
যে যা ভাবে ভাবুক
মনের কথা মুখের ভেতর
ডানা মেলে উড়ুক!

লেখকঃ গাজিবর রহমান

১/ বকুল হয়ে ঝরবো
–গাজিবর রহমান

বন্ধু যদি হতে পুষ্প
পলাশ ফুলের ডালে,
আদর করে দিতাম চুমা
কমল দুটি গালে ।।

বন্ধু তুমি গাইলে গান
শিমুল ফুলের ডালে,
মনের সুখে গায় কোকিলা
এই বসন্তকালে ।।

ফাগুন মাসে আগুন জ্বালে
কৃষ্ণচূড়ার ডালে,
অপেক্ষাতে পাই আনন্দ
সোনাই বন্ধু এলে ।।

বুনো ফুলের শোভা ভালো
ফুটে বন বাদড়ে,
তেমনি তোমায় বাসি ভালো
রাখি যে আদরে ।।

শিউলি হয়ে ফুটবো আমি
বকুল হয়ে ঝরবো,
ভোমর হয়ে জন্ম নিব
শিশির হয়ে মরবো ।।

পুষ্প বাগের প্রভাত হবো
দোয়েল পাখির গানে,
বন্ধু আমার আসবে এখন
দোলা দেয় রে প্রানে ।।

২/ সুচিত্রা সেন
– – – – গাজিবর রহমান
মহানায়িকা সুচিত্রা সেন, তুমি এসেছিলে মহাবিশ্বের মৃর্ত্তিকার বুকে
চন্দ্রালোকে নক্ষত্রের সিঁড়ি পাড়ি দিয়ে, সকলে চিনে তোমাকে।।
বাস্তব ভাঙ্গা তোমার রূপের মহিমা, আমার হৃদয় হারা মন্দির
নিজেরে হেরিন ওই হরিণ ডাগর আঁখিতে, জোড়া ভুরু সুন্দর ।।
তুমি চঞ্চল চপলা কখন বা অবলা, আমার মন কাড়ে মায়া দৃষ্টি
কোন বিধাতা তোমারে অমন করে, করিল যেন দেবীর সৃষ্টি ।।
তোমারে যতবার দেখেছি, ততবার হয়েছি- অপার মুগ্ধ আমি
তবে তুমি, শোন বলি আমি, তোমার সৃষ্টি দেখেছি সকল ছবি ।।
আজও তোমাকে খুঁজি, আলোতে নয়ন মেলে, আঁধারে জোনাক জ্বেলে
হঠাৎ শুনি, নিখোঁজ তুমি, মর্মে মর্মে বজ্রপাতের ধ্বনি, কোথায় গেলে।।
তোমার চোখের কাজল, আজও আমার নয়নে ভাসে বৈশাখী মেঘের কাছে
পদ্মপুষ্প কপালের কালো টিপ, চন্দ্রপক্ষ ললাট তলস্থ উপরে আঁকা বৃত্ত নাচে।।
তোমার ভোমর কালো কেশ খোঁপায়, পাচ্ছে শুভা শিউলী বকুল মালা
সপ্তচন্দ্র বাঁকা ঠোঁটে, কুল ভাঙ্গা তার হাসি, ভাসে আনন্দের ভেলা।।
তোমার কথার ছলে কপল যুগোল টোল ফেলে যায়, দৃষ্টি নাহি সরে
কোথায় আছ কেমন আছ ? ভালে থেকো, ভাল রেখ আজও মনে পড়ে।।
তোমার শাড়ির আঁচলে বেঁধে রেখেছি আমার মন, আঁকুবাঁকু করে প্রাণ
আমি তোমার পথের সাথী, রথের সারথী বিশ্ব ভারতী, গেয়েছে জয়ের গান।।
হাতের বালা করছে খেলা আওলা চুলে পবন ভোলা কমর দোলা
আলতা পায়ে নুপুর বাজে ঝুমুর ঝুমুর, কানের দুল দুলছে যেন নাগরদোলা।।
এখনও খুঁজি তোমার ছাঁয়া দুপুর বেলা, নড়ছে যেন কমর বিছা
ঝিঁনুক মালা গলার ভাঁজে মুগ্ধ শোভা, কত আয়োজন সবই হলো মিছা।।
চন্দন কাঠের চিতার আগুনে শ্মশানে হলে শেষ, তবে বেশ, স্বর্গ আছে খোলা
শেষে নিজেকে আবদ্ধ রেখে চলে গেলে, দিলে সকল ভক্তের চোখে ধুলা।।

৩/ আধখানা চাঁদ
– – – – গাজিবর রহমান
জানালা খুলে বাইরে দেখি, আধখানা চাঁদের আলো,
নারকেল গাছের শাখায় আজ, ভাঙ্গা চাঁদের আলো ।
ভাঙ্গা চাঁদের আলোর ভেলা, মাধবী লতার পাতায়,
মনে পড়ে, তুমি নেই মোর পাশে ।
আজও মাধবী লতায় ফুটেছে যখন ফুল,
ঝরেছে বকুল, ভোরে কুড়ায়ে নিলে তুমি ।
চাঁদনি রাতে বকুল তলায় আমি,
মাধবী লতার পাশে দাঁড়িয়ে আছ তুমি ।
আমায় ডাকলে তুমি, হাতছানি দিয়ে,
আধোরাতে আমি –
দিয়েছি জানায় টুকা ঠকাস শব্দ করে ।
জানালা খুলে বাহির হলে তুমি,
সেই তুমি আজ, নেই কাছে তুমি, আছি শুধু আমি ।
টুকরো টুকরো চাঁদের আলোয়, ভেসে যায় যত স্মৃতি,
বুকের ব্যথা, চোখের পানি, আলোর ভেলা রাতে ।
চাঁদের আলোয় যাব ভেসে, বলাকার মত উড়ে,
মেঘের ভেলায় যাব ভেসে, স্বপ্নপুরীর দেশে ।
ঠিকানা বিহীন ঠিকানার খোঁজে যেথায় আছ তুমি,
দিনান্তে ক্লান্তির সঞ্চয় মনে নিয়ে –
তোমার আশায়, বসে আছি বাতায়ন পাশে ।
কী এক মৌন নিথর নিস্তব্ধতার মায়া পুরীতে,
মন ঘুরে বেড়ায় আধখানা চাঁদের মাঝে কি না, জানি না ।
কী এক অজানা আবেশে ঢলে পড়েছি,
চোখ খুলে দেখি মায়াময় পসরা নিয়ে –
রূপালী পৃথিবী হাজির ।
মৃদু হিল্লোলে গাছটা কেঁপে উঠলো,
নারকেল পাতা চিক্ চিক্ করে উঠলো ।
এক মুগ্ধ আবেশে,
জানালার পাশে, ভাবি দাঁড়িয়ে ।
শৈশব দিনগুলির কথা,
শরতের সাদা মেঘ উড়ে চলছে ওই দিগন্তের পানে ।
পাল তুলে দিয়েছি আমি, আমার মনের তরীতে,
সেই দিনের চাঁদ আর –
আজকের বাঁকা চাঁদ স্পষ্ট অনুভব করি ।
দিন দিন যৌবনের তাড়নায়, বাড়ছে মনের ঝোঁক,
বড় আক্ষেপ হচ্ছে আমার,
শৈশব দিনগুলির জন্য ।
শতশত আক্ষেপে আর ফিরে পাবনা ।
সেই দিন দেখি প্রথম প্রেমে পড়া পূর্ণিমার চাঁদটি,
একটি সাথী হারা রাত জাগা পাখি, উড়ে গেল শালবন থেকে ।
রাতের এই মৌন নিস্তব্ধতাকে ভেদ করে,
চাঁদ উঠলে মনে পড়ে বার বার তোমার কথা।
বসন্ত সমীরন মৃদু হিল্লোলে,
আমার মাথার চুলে হাত বুলিয়ে দিল ।
বাঁশির করুন সুর শুনতে পাই,
কে বাজায় – ওই বাঁশি ।
তুমি কথা কও, বার বার আমার মনে,
বহুকাল বিস্মৃত সুখ স্বপ্নের স্মৃতির ন্যায়-
ওই মধুর গীতি মনের কর্ণন্দ্রে প্রবেশ করে ।
এতো মধুর লাগলো কেন ?
এই আলো ভরারাত যে, অতি মধু মাখা সখী,
জ্যোৎস্নাময়ী রাত্রী দেখে, আমার মনে পড়ে,
সেই আনন্দের দিনগুলির কথা ।
রাতের স্বপ্নঝরা জ্যোৎস্না, নদীর সৈকতে কৌমুদি হাসে,
অর্ধনবৃতা সুন্দরীর নীল সলিল তরঙ্গীনি-
সৈকত বেষ্টিত করে চলিল,
দিবসের কর্মমুখর পৃথিবী যেন কার যাদুস্পর্শে,
স্বপ্নপুরীতে হয়েছে পরিণত।
জ্যোৎস্না পুলকিত যামিনী যেন আমার কবিতা,
শিল্পীর অনুপমার সৃষ্টি ।

৪/ বিভা
—- গাজিবর রহমান
বিভা,
তুমি আমার রম্ভা
তুমি রূপসী তিলোক্তমা।
তুমি রূপে রূপবতি, গুনে গুনবতী
তুমি প্রতিমার মত সরস্বতী।
তোমাকে যতই দেখি, ততই দেখার ইচ্ছা বাড়ে
মনটা আমার নাও যে, কেড়ে।
বিভা,
তুমি যখন হাস, তখন চাঁদের জ্যোৎস্না হাসে
পাখিরা মধুর সুরে গান গায়
ভ্রমর গুনগুনিয়ে আলিঙ্গনে ফুলে বসে।
প্রজাপতিরা ফুলের রেণু তুলে তোমাকে সাজায়,
তুমি যখন খলখলিয়ে হাস, তখন ফুলেরা পাঁপড়ি মেলে,
তোমার হাসির শব্দে স্বর্গের কল্পতরু বৃক্ষের পুষ্প ঝরে পড়ে।
বিভা,
তুমি যখন চোখ মেলে চাও
পৃথিবীটা তখন আলোয় আলোকিত হয়,
ভোর হয়, তোমার নিশ্বাসে প্রশ্বাসে।
সূর্য উঠে তোমার’ই আলোতে
চন্দ্র জ্যোৎস্না ছড়ায় তোমার বদনের রূপে,
তোমার রূপেই পৃথিবী সৃষ্টি।
বিভা,
আমি তোমায় ভালবাসি, নিজের মত করে
আমার কাছে তুমি সদ্য প্রস্ফুটিত একটি পুষ্প।
তোমার রূপের মহিমায় আমি পাগল হয়ে যায়-
আত্মহারা হয়ে যায়, আত্মভোলা হয়ে যায়।
তোমার ঐ যৌবনেত্বে আমি সদা জাগ্রত,
তুমি যেন আমার নীল পদ্ম।
বিভা,
তোমায় স্পর্শ করে দেখতে ইচ্ছা করে
আসলে তুমি মানুষনা, স্বর্গের অপস্বরী।
না’কি কোন দেবতা ঘরের দেবী-
তোমার প্রেমে ঈশ্বর পাগল
তোমার প্রেমে ভগবান পাগল।
তোমার প্রেমে সকল দেবতাগণ পাগল
আর আমি, মর্তের মানুষ পাগলে বেহুঁশ।

বিভা,
আমি রাত্রে বিছানায় তোমার শরীরের গন্ধ পায়
তোমার ডাগর ডাগর মায়াবী হরিণীর মত চোখ দু’টি
আমাকে পাগল করে তুলে।
তোমাকে মন-প্রাণ ভরে ভালবাসতে ইচ্ছা করে।
ইচ্ছা করে, ভীষনভাবে আদর করতে-
তুমি যে আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয়।
বিভা,
তুমি আমার কোকিলের গান, ফুলের হাসি
তুমি আমার চাঁদ বদনি, ময়ূরের পেখম,
তুমি আমার ভোরের ফুল, রাতের বাসর
তুমি আমার সাগরের ঊর্মি, গোধুলী কিরণ।
তুমি শেষ রাতে, বর্ষায় ফোটা কদম ফুল,
তুমি বিভা, আমি শিবা, বারন আছে কি’বা ?
বিভা,
তুমি জল কুমারী, ফুল কুমারী, চাঁদ কুমারী,
তুমি আমার ভালবাসার মানস কন্যাকুমারী।
তোমাকে বার বার দেখতে মন চায় যেন-
বার বার তোমার কাছে ফিরে যেতে ইচ্ছা করে।
তোমার রূপের ঝলকে, মনটা আমার কেমন যেন করে,
মনের ভিতরে মন গুমরে গুমরে কাঁদে – জান।
বিভা,
তোমার জন্য আমি মন-প্রাণ সবই দিলাম শপি।
তুমি সুন্দর বলেই, আমার কাছে পৃথিবীটা এতো সুন্দর।
তুমি সুন্দর বলেই, আকাশ এতো সুন্দর।
তুমি সুন্দর বলেই, মেঘ সুন্দর।
তুমি সুন্দর বলেই, তারকা এতো সুন্দর।
তুমি সুন্দর বলেই, পাখির গান এতো সুন্দর।
বিভা,
তোমার ভিতরে তুমি সুন্দর,
তোমার মনের ভিতরে মন সুন্দর,
তোমার দেহের ভিতরে দেহ সুন্দর,
তোমার শরীরের ভিরের ত্বক সুন্দর।
তুমি সুন্দরের সুন্দরী।
তুমি আমার, ভালবাসা প্রেম প্রেয়সী।
বিভা,
তুমি সুদন্তী, তুমি সুকর্ণ
তোমার কপল সুন্দর,
তোমার কপাল সুন্দর
তোমার ওই হরিণী-চোখ সুন্দর।
তোমার চাঁদ বাঁকা ঠোঁট সুন্দর,
তোমার বক্ষদ্বয় সুন্দর।
বিভা,
তোমার গলার ভাঁজ সুন্দর,
তোমার কোমর সুন্দর,
তোমার উরু সুন্দর,
তোমার পায়ের পাতা সুন্দর।
তোমার খোলা কেশ সুন্দর,
তোমার বাহু যুগোল অপরূপ সুন্দর।
বিভা,
তুমি কতই না, সুন্দরের সুন্দরী।
তুমি কতই না, রূপের রূপসী।
গাছ সুন্দর, সবুজ সুন্দর আর সুন্দর তুমি,
চাঁদ সুন্দর, তারা সুন্দর আর সুন্দর তুমি।
মেঘ সুন্দর, আকাশ সুন্দর আর সুন্দর তুমি।
পাখি সুন্দর, ফুল সুন্দর আর সুন্দর তুমি।
বিভা,
ছায়া সুন্দর, আলো সুন্দর আর সুন্দর তুমি।
দিন সুন্দর, রাত সুন্দর তারে চেয়ে বেশী সুন্দর তুমি।
বাঁশি সুন্দর, সুর সুন্দর তার চেয়ে অধিক সুন্দর তুমি।
জল সুন্দর, বাতাস সুন্দর তুমি সুন্দরের রাজরাণী।
গান সুন্দর, নাটক সুন্দর আরও সুন্দর, তোমার কথা।
রোদ সুন্দর, তুমি সুন্দর, সুন্দর তোমার ছায়া।
বিভা,
তোমায় নিয়ে ঘুরবো আমি, মেঘের ভেলায় ভেসে,
তোমায় নিয়ে উড়বো আমি আকাশ গঙ্গা রথে।
মোহনায় বসে দেখবো দু’জন, উড়াল পাখির ডানা্।
বনে বসে দেখবো দু’জন, প্রজাপতির খেলা।
তোমায় ভালবেসে হলাম বাওয়ারা,
তোমায় দেখে আমি হলাম আওয়ারা।
বিভা,
তোমার মিষ্টি মুখের হাসি সৃষ্টি করে মায়া,
দিবা-নিশি জাগরনে দেখি তোমার কায়া।
বুকের মাঝে দারুন ব্যাথা, বলতে ফাটে বুক।
মনটা শুধু হু—হু—করে, চোখে আসে জল,
বলনা প্রিয়া—-?
মানুষ হয়ে মানুষকে ভালবাসা কি আপরাধ ?
বিভা,
আমি যখন তৃষ্ণার জন্য, পানি পান করতে যাই
সেই জল ভর্তি পাত্রের মাঝে, আমি তোমাকেই দেখতে পাই।
আমি যখন খাবার খেতে যাই,
তখন খাবার থালায়, আমি তোমাকে দেখতে পাই,
আমি যখন গোসল করতে পুকুরের জলে নামি-
তখন আমি, পুকুর ভর্তি জলের মাঝে তোমাকে দেখতে পাই।
বিভা,
আমি যখন রাত্রে শয়ন কক্ষে যাই
তখন সমস্ত বিছানা জুড়ে, আমি তোমাকে পাই।
আমি যখন ঘুমিয়ে পড়ি-
তখন তোমার স্বপ্ন আসে দু’চোখে,
যখন তোমার স্বপ্ন আসে আমার নয়ন ভরে-
তখন তুমি, হাসি মুখে আস আমার পাশে।
যখন তোমাকে দু’হাত বাড়িয়ে ধরতে যায়-
তখন আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
তখন দেখি আমার চারপাশ হাহাকার।
বিভা,
তোমার প্রেম, তোমার ভালবাসা বড় মধুময়।
তুমি ভালবাস বটে কিন্তু মুখে বলনা,
আবার, ভালবাসাকে নোংরা মনে কর,
আবার ভাব, সামাজিক কলঙ্কের কথা।
তুমি যায় ভাব’বার ভাব–
কিন্তু কখনও প্রেম, ভালবাসাকে নোংরা ভেবনা।
কারণ, সৃষ্টির তৈরী প্রেম, ভালবাসা।
তোমাকে যে, ভালবাসে, সেও কিন্তু সৃষ্টির সৃষ্টি।
বিভা,
তোমাকে, যে সৃষ্টির দেবতা –
সুন্দর করে গড়ে তুলেছে বলেই’তো, তুমি সুন্দর
তোমাকে যে পছন্দ করে, তুমিও তাকে পছন্দ কর,
এটা সৃষ্টির উপদেশ, যদি তুমি তাকে পছন্দ কর।
মধুপূর্ণিমা রাতে প্রেমের দেবতারা আসে পাহাড় তলিতে
ভালবাসার দেবীরা মনের পসরা সাজিয়ে আসে সেখানে।
বিভা,
চল’না সুন্দরী, মন পাগল প্রেয়সী।
ওদের সঙ্গে আমরাও করি ভালবাসার আলিঙ্গন।
চল’না রূপ প্রেয়সী রূপসী, প্রেমে মজি দু’জনা
চল’না আমার ভাবনার ভালবাসা, আদর করি জড়ায়ে।
চল’না, আমার প্রেমের ফুলকুমারী, চুম্বুন করি ঠোঁট দু’টি।
চল’না, আমার রূপলাবণ্যের লাল পরী, তোমায় একটু ছুঁয়ে দেখি।
বিভা,
তুমি নিশ্বাস নাও বলেই, আমি বেঁচে আছি।
তুমি চোখ মেলে চাও বলেই, আমি তোমাকে দেখতে পাই।
তুমি পথ চল বলেই, আমি চলতে পারি।
তুমি কথা বল বলেই, আমি কবিতা পড়তে পারি।
তুমি খাবার খাও বলেই, আমি খাবারের স্বাদ পাই।
তুমি বেঁচে আছ বলেই, আমি বেঁচে আছি।
তোমায় আমি আজও ভালবাসি।

৫/ নারী
– – – – গাজিবর রহমান
নারী,
আমি তোমাকে জোর দিয়ে বলব না –
আমার জন্য রান্না কর,
আমি তাকে ভালবাসতে বলবনা,
তোমার ইচ্ছেমত তুমি চল ।
তোমার খেয়াল খুশি মত তুমি চল,
তুমি, তোমার ভুবন ঘুরে দেখ ।
নারী,
আমি, তোমাকে বলব না,
আমার জন্য ভাতের থালা নিয়ে রাত জেগে বসে থাক,
আমি বলব না,
তুমি, আমার পঞ্জাবী, পায়জামা ধুয়ে দাও ।
আমি শুধু বলব,
তুমি দেশের কথা, মানুষের কথা ভাবো ।
নারী,
আমি স্বামী বলে, তোমাকে ঘরের দাসী, বাঁদী করে রাখতে চাইনা,
তুমি বিচরন কর পৃথিবীর বুকে, আকাশে, বাতাসে, জলে স্থলে,
তুমি বিচরন কর মর্তের সকল স্থানে ।
আমি বলবনা, তুমি আমার জন্য অপেক্ষা কর,
আমি বলবনা, তুমি কাঁচা ঘুম থেকে উঠে
আমার জন্য গরম রুটি বানিয়ে দাও ।
নারী,
আমি চায়, তুমি টেবিল-চেয়ারে বসে,
আমার মত সাহিত্য রচনা কর ।
গল্প লেখ, উপন্যাস লেখ, কবিতা লেখ,
আমি তোমাকে কোন দিন বলব না, আমার জুতা জোড়া এনে দিতে ।
আমি তোমাকে কোন দিন বলব না,
ঘরের ইট পাথরে ঘেরা চার দেয়ালের মাঝে বন্দী থাক।
নারী,
ঐ দেখ বাবু সাহেব যাচ্ছেন প্যান্ট-শাট পরে অফিসে,
তুমি ঘরের মাঝেই থাকবে ? অফিস যাবে কখন ?
আমি চাই, তুমিও গটগট করে অফিসে যাও,
শহর, বন্দর, আদালতে যাও ।
হাটে-ঘাটে, মাঠে-ময়দানে পুরুষের সাথে কাজ কর,
তুমি পুরুষের মত জনতার সাথে সামিল হও ।
নারী,
তুমি ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফিরলে,
আমি তোমায় হাত পাখা দিয়ে বাতাস করব,
আমার কোলে মাথা রেখে তোমার কপাল খানা মালিশ করে দেব ।
আমি তোমার কপালের ঘাম মুছে দেব,
তোমার অসুখ করলে, মাথায় আঙ্গুল দিয়ে-
চুলের মাঝে বিলকি দিয়ে আঁচড় কাটবো ।
নারী,
আমি সকল নারীর কথায় বলছি,
নারী হয়ে উঠুক, দেশের মানসী নারী, সাহসী নারী,
আমি কাউকে ছোট-বড় বলছিনা ।
আমি সমতার কথা বলছি, সাম্যর কথা বলছি,
আমি তোমাকে একটি কাঁচা মরিচ আনার কথা বলব না,
বলবনা, পান্তা ভাতে খা্ওয়ার জন্য, একটি পেঁয়াজ আনার কথা ।
নারী,
আমি, তোমাকে কোন প্রশ্নই করব না,
নিজের কাজ আমি নিজেই করতে পারব ।
তুমি দেরী করে রাতে বাড়ি ফিরলে-
কখনও বলব না, এতো রাত হ’ল কেন ?
কারণ আমিও দেরী করে রাতে বাড়ি ফিরি,
বরং হাসি মাখা মুখে বলব, তোমার সকল কাজ শেষ হ’ল ?
নারী,
যদি কোন কাজ বকেয়া থাকে’ত বল,
আমি তোমাকে সাহায্য করব, তুমি বিশ্রাম কর ।
আমি তোমাকে ভালবাসতে বলবনা,
আমি তোমাকে কটুক্তি করব না
অবহেলা করবনা, করুনা করবনা ।
আমি, তোমার স্বামী বলে, হর্তা, কর্তা, বিধাতা নয় ।
নারী,
যে, স্বামী কোন নারীর প্রতি জোর কাটায়,
সে পুরুষ নামে কাপুরুষ, সে স্বামী হবার অযেগ্য ।
আমি তাকে আদর করতে বলবনা,
বলবনা, বিছানা করে দিতে ।
আমি তাকে, আমার গা টিপে দেবার কথা বলবনা,
আমি তাকে বলবনা একগ্লাস জল আনার কথা ।
নারী,
পৃথিবীর সকল নারী হয়ে উঠুক কমট, সচেতন, স্বাধীচেতা,
বিশ্বনারী এক হও, হিংসা, বিদ্বেষ নয়, চল সমতার কাতারে ।
নারী তুমি এখনও বড় লাজু, বড় শরম, বড় ভয় কর,
মাথা তোল, মুখ খোল, সাহসী হও, বুকে রাখ বল ।
হাতের মুঠোয় শক্তি আন, আগে হও আগুয়ান,
এ বিশ্ব চেয়ে আছে তোমাদের দিকে ।

13 জালাই, 2017 খ্রীস্টাব্দ। 29 আষাঢ়, 1424 বঙ্গাব্দ। বৃহস্পতিবার।
নিজ নিবাস, চারঘাট, রাজশাহী।

Updated: March 13, 2020 — 7:59 am

The Author

শাহরিয়ার হোসেন

শাহরিয়ার হোসেন একজন ক্ষুদ্র ব্লগার। লিখতে খুব ভালোবাসেন। অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগে ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে লিখছেন। কাজের চেয়ে নিজের নাম প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। সে চিন্তা থেকেই এই ব্লগের উৎপত্তি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স কমপ্লিট করেছেন। বর্তমানে একই বিভাগে মাস্টার্স এ অধ্যায়নরত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *