গর্ভাবস্থায় আমল – গর্ভবতী অবস্থায় আমল

গর্ভাবস্থায় আমল

যে সকল মা গর্ভবতী অবস্থায় আছেন এবং গর্ভবতী অবস্থায় থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের আমল করে নিজের সুস্থতা এবং সন্তানের কল্যাণ কামনা করতে চাইছেন তারা আজকে আমাদের ওয়েবসাইটের এই পোস্ট পড়বেন। কারণ এই পোষ্টের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়েরা কি ধরনের আমল করতে পারে তা জেনে নিতে পারবেন এবং এই আমল করলে দেখা যাবে যে নিজের যেমন উপকার হচ্ছে তেমনি ভাবে গল্পের সন্তানের জন্য সেটা অনেক উপকার হবে।

যেহেতু একজন মা নিজের সর্বোচ্চ কষ্ট স্বীকার করে একজন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন এবং সেই সন্তানকে দশ মাস দশ দিন পরে ভূমিষ্ঠ করেন তখন তার অনেক দায়িত্ব থাকে। একজন মা যখন বিভিন্ন ধরনের কষ্ট অথবা বিপন্ন অবস্থায় সম্মুখীন হয়ে থাকে তখন অবশ্যই তাকে বিভিন্ন ধরনের আমল করে মহান আল্লাহপাকের কাছে এ বিষয়ে সাহায্য চাইতে হবে। তাই আপনারা যারা এ বিষয়ে জানতে এসেছেন তারা অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইটের পোস্ট করবেন এবং আমরা আপনাদেরকে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানিয়ে দেব।

গর্ভে সন্তান ধারণ করে থাকেন তখন একজন মা অনেক কষ্ট করে থাকেন এবং এ বিষয়ে আল্লাহ পাক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। সূরা লোকমানের 14 নম্বর আয়াতে যে কথাগুলো তুলে ধরেছেন তা এখানে আপনাদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে দেওয়া হলো।

আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে তার মা-বাবা সম্পর্কে জোর নির্দেশ দিয়েছি, কেননা তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট সয়ে পেটে বহন করেছেন আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে; তুমি শোকর আদায় কর আমার এবং তোমার পিতা-মাতার। আমারই কাছে (তোমাদেরকে) ফিরে আসতে হবে।’ (সুরা লুকমান, আয়াত : ১৪)

এছাড়াও অনেকে মনে করে থাকেন যে গর্ভে যদি সন্তান আসে তাহলে সেটা অনেক বোঝা হিসেবে দাঁড়াচ্ছে এবং সন্তান ভুমিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই কষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে বহন করতে হবে। আপনি গর্ভে সন্তান ধারণ করার পরে যেমন একজন সন্তানকে এই পৃথিবীর বুকে জন্ম দান করতে পারবেন তেমনি ভাবে আপনি তাকে লালন-পালন করার জন্য অথবা আপনার বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে অনেক অনেক সওয়াব পেয়ে যাবেন। তাছাড়া আপনি যদি আপনার সন্তানের জন্য ঘুমহীন রাত কাটিয়ে থাকেন তাহলেও আপনার জন্য অবশ্যই সোয়াব প্রদান করা হবে।

তাই আপনি যখন সন্তান গর্ভে ধারণ করবেন তখন অবশ্যই আপনার বিশেষ কিছু আমল রয়েছে এবং এই আমলের মধ্যে যে সকল ফরজ আমল রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পালন করতে হবে। বিশেষ করে আপনারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং কোরআন তেলাওয়াত থেকে শুরু করে জিকির করতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মধ্যে সবচাইতে বেশি হলো ইস্তেগফার পাঠ করা এবং তওবা পাঠ করা। আল্লাহপাকের কাছে যদি দুই হাত তুলে দোয়া করেন এবং আপনার সন্তান যেন এই পৃথিবীতে সুন্দরভাবে ভুমিষ্ট হতে পারে এ বিষয়ে যদি আল্লাহপাকের সাহায্য কামনা করেন তাহলে অবশ্যই তিনি আপনাদেরকে বিষয়ে সাহায্য করবেন।

গর্ভে যখন সন্তান আসবে তখন একজন মায়ের পণ্য মনোযোগ থাকে সেই সন্তানের প্রতি এবং সেই সন্তান যাতে একজন পৃথিবীর বুকে আদর্শবান এবং ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুমিন বান্দা হতে পারে সেই জন্য চেষ্টা করে থাকেন। তাই আপনি যখন গর্ভ অবস্থায় থাকবেন তখন শারীরিক অজুহাত না দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াত করলে অবশ্যই সেই ইবাদত সেই সন্তানের জন্য পৌঁছাবে এবং সেই সন্তান পৃথিবীর বুকে এসে একজন নরম হৃদয়ের এবং মুমিন বান্দা হতে পারবে।

তাই মা হওয়ার জন্য আপনারা সূরা আল ইমরানের ৩৫ নম্বর আয়াত পাঠ করতে পারেন এবং এই নাম্বার আয়াতটি পাঠ করলে আপনারা দেখা যাবে যে আপনার সন্তান এই পৃথিবীতে আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল করতে পারছেন। তাছাড়া আপনি যদি মনে করে থাকেন আপনার সন্তান এই পৃথিবীতে সুস্থ ভাবে এবং নেক ভাবে বসবাস করতে পারে তার জন্য আপনারা নিচের দোয়াটি পাঠ করবেন।

রাব্বি হাবলি মিনলাদুনকা জুররিয়াতান তাইয়িবাতান ইন্নাকা সামিউদ্দুয়া’, অর্থাৎ, ‘হে আমার পালনকর্তা! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’ (সুরা আলে ইমরান : ৩৮)

এটি পাঠ করার ভেতর দিয়ে আপনারা সন্তানের নেক হায়াত দারাজ করার জন্য মহান আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া করতে পারবেন। তাছাড়া একজন মা যখন তার মন থেকে কোন সন্তানের জন্য দোয়া করেন তখন অবশ্যই আল্লাহ পাক তা কবুল করবেন।

About শাহরিয়ার হোসেন 4779 Articles
Shahriar1.com ওয়েবসাইটে আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় যা কিছু দরকার সবকিছুই পাবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*