নতুন ভালবাসার রোমান্টিক গল্প ২০২০

শৈবা – ১৭
–গাজিবর রহমান
তুমি আমাই ডেকেছিলে বৈসাবি অবসরে । আমি শৈবালিনী কে জিজ্ঞাসা করলাম ‘বৈসাবি’ কি ? তার উত্তরে বুঝতে পারলাম, বর্ষবরণ উৎসবকে ত্রিপুরারা বৈসু, মারমারা সাংগ্রাই ও চাকমারা বিজু বলে অভিহিত করে এবং এগুলি নামের অর্ধ অক্ষর নিয়ে ‘ বৈসাবি’ নামে পরিচিত । শৈবা নৃ-গোষ্ঠী পাহাড়ি মেয়ে । সে আমার প্রেমের পথিক ।

সে পাহাড়ের গায়ে বনে বনে বুনো চঞ্চল মায়া হরিনীর মত ঘুরে বেড়ায়, কখন পাহাড়ি নদীর বাঁকে বাঁকে দুঙ্গা নিয়ে রূপালী মাছের মত ভেসে চলে । জৈন্তিয়া নদীর জলের মত তার টলটল অরুন্ধতী চোখ, সেই মায়াবী চোখে হালকা বুনো কাজলের ছায়া ।

কুসুম কলিত শিরে কুঞ্চিত কুন্তল । পূর্ণ পূর্ণিমা শশীর ন্যায় তার মুখশ্রী । সুমধুর কলের গানের ন্যায় তার কণ্ঠস্বর । সপ্তদিনের চন্দ্রের ন্যায় ললাটের আঁকা লাল টিপ । ঘন কেশ বিন্যাসের মাঝখান দিয়ে চন্দনা নদীর মত রেখা টানা সিঁথি ।

অর্ধচন্দ্রাকৃতির ন্যায় রূপালী ওষ্ঠদ্বয় । চেহারায় কুমারীর শুভ্রতা । নাক তার প্রকৃতির কারুকার্য মুখমন্ডলে মানানসই । দুলিতেছে বাতাসে লাল কুঁচের কর্ণভূষণ । লাউ ডগার মত হাতে তার স্বর্ণলতার দুগাছি সরু চুড়ি ।

বন থেকে নদী, টিলা থেকে পাহাড় ঘুরছি আর ঘুরছি প্রকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি । সঙ্গে আছে আমার প্রেমের পথিক ‘শতরূপা কন্যা কুমারি শৈবালিনী’ । আমি তাকে ছোট্ট করে ‘শৈবা’ নামে ডাকি ।

দিনের প্রহরী সূর্য দেবতা পাহাড়ের গায়ে লালচে আবির ফেলে নদীর জলে নেমেছে বৈকালিক স্নানে । অপরূপ এক দৃশ্য পট ধারণ করেছে সব কিছু মিলে যেন ছবির মতো । পাখির কিচিরমিচির শব্দ, বন মোরগের ডাক, হরেক রকম প্রাণীদের বিচিত্র হাঁক ।

অতীত পাতাঝরা শব্দ । আস্তে আস্তে পাহাড়ের গায়ে দিনের প্রস্থান হলো, বনমঞ্চে শুভ সন্ধ্যার আগমন । আমি আর শৈবা ফিরে এলাম পাহাড়ি ছায়াকুঞ্জে ।

রজনীর প্রথম প্রহরে পাহাড়ি মঞ্চে অভিনয় শুরু করে দিল রাত জাগা পশু আর পাখিরা । শিয়াল প্রথমে তার ভাষায় বনগীতি গাইলো । রাতের আকাশে কোজাগরী চাঁদ নীল জ্যোৎস্নায় স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলে ।

ছোট্ট বাঁশের মাচায় আমি আর শৈবা শুয়ে । ছায়াকুঞ্জ মাঝে তেল আর আগুন মিলেমিশে পিরিতের মসাল দাউ দাউ করে জ্বলে । শৈবা’র আবেদনময় কণ্ঠ । তার যৌবন বিকশিত হচ্ছে স্বরের পরিবর্তনে ।

আমার শরীরে মিশে যাচ্ছে শৈবার মৌন আদর । তার রূপলাবণ্যে আমি এক রাতের মাতাল শিকারী । তার পুষ্ট বক্ষদ্বয়ে টলমল করে দোল খায় সদ্য প্রস্ফুটিত শ্বেত শতদল । শৈবা’র গহীন গভীর নাভী মূল গোপন সঙ্গমের কথা জানায় ।স্পন্দমান আবগের ভুগোল ।

নারীর রূপের পূজারি পুরুষ । আমি তার ভিন্ন নয় । তার শরীরের মিষ্টি সুগন্ধ আমায় আকৃষ্টতার নেশা ধরায় । নারীর শরীরে প্রাকৃতিক ভাবে যে গন্ধ থাকে তা পুরুষ বধে একধরনের প্রাকৃতিক নেশা ।

তার সুন্দর চেহারায় চুঁইয়ে পড়া যৌনতার ঝলক ।বক্রাকার কোমর ।নরম শরীরে তন্বী-আবেদন । তার কোমরের ভাঁজে ভাঁজে ঊর্মিলহরী খেলা করে ।

ভোমর কালো চোখের ঝিলিক, টোল ফেলা গালের হাসি, গোলাপ ঠোঁটের দুষ্টুমি, উঁচু বুকের উচ্ছৃঙ্খলতা, ঢেউ খেলানো নিতম্বের উন্মাদনা- এ সব আমাকে এক্কেবারে উন্মাদ করে দেয় । তার কাজল চোখের মায়াবী ভালোবাসায় আমাকে পাগল করে তুলে ।

সৌন্দর্য্য থেকে প্রেমের জন্ম আবার প্রেম থেকে সৌন্দর্যের জন্ম । সৌন্দর্য্য যেমন প্রেমের জন্ম দেয়, তেমনি প্রেমও সৌন্দর্য্যের জন্ম দেয় । শৈবা’র কোমরের অংশ ভি-শেপের । প্রশস্ত নিতম্ব, তীক্ষ্ণ বক্ষ এক অনন্য লীলায়িত ছন্দ তুলে । নিতম্ব অঙ্গটি অন্যতম প্রধান একটি কামকেন্দ্র যেন একটি স্বর্ণ খনি ।

শৈবা’র শরীর দিয়ে কহিনূরের মত জ্যোতি বেরুচ্ছে । তার গুরুভার নিতম্বের অপূর্ব দোলায়িত ছন্দে চির ব্রহ্মচারীও হবে প্রেমোন্মত্ত । চাঁদের আলোতে রক্তিম আভায় যেন রাশি রাশি স্থলপদ্ম সৃষ্টি মনমঞ্চে ।

বক্ষ পুরু কোমর সরু প্রশস্ত নিতম্ব উন্নত উরুদ্বয়ের সংযোগস্থলে কুমারী সরোবর সেখানে সর্বদা জাগ্রত লাল পদ্ম পুষ্প ।তার নিম্ন ভাগে গোলাকৃতি সুখ, শান্তির সুপ্রিয় বাসা ।

প্রকৃতির অপরূপ বিস্ময় ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি বৈকাল হ্রদ সুগভীর নাভীমুলের নিম্নভাগের শৈবাল ঠেলে কাম তরঙ্গলহরীতে ভেসে চলে সুশান্তির তরী উরুদ্বরে সংযোস্থল নায়াগ্রা জলপ্রপাতে । শ্লথ কবরী হতে পুষ্পমাল্য পতিত করিয়া আলিঙ্গনরত । পায়ের নূপুর মন্দগতিতে ঝুমুর ঝুমুর ধ্বনি তোলে ।
১৭ ভাদ্র ১৪২৬ * ০১০৯১৯ * আরাম ঘর

Updated: March 4, 2020 — 10:32 am

The Author

শাহরিয়ার হোসেন

শাহরিয়ার হোসেন একজন ক্ষুদ্র ব্লগার। লিখতে খুব ভালোবাসেন। অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগে ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে লিখছেন। কাজের চেয়ে নিজের নাম প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। সে চিন্তা থেকেই এই ব্লগের উৎপত্তি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স কমপ্লিট করেছেন। বর্তমানে একই বিভাগে মাস্টার্স এ অধ্যায়নরত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *