মেয়েদের বুকে লোম হওয়ার কারণ

মেয়েদের বুকে লোম হওয়ার কারণ

অনেক সময় দেখা যায় যে মেয়েদের বুকে লোম উঠেছে। সাধারণত নারী শরীর মসৃণ এবং লোমহীন হওয়া উচিত। আসলে এখানে উচিত বলা হচ্ছে এই অর্থে যে আমরা এ ধরনের ত্বক দেখতে পছন্দ করি। কিন্তু যদি মেয়েদের বুকে লোম উঠে এবং এই ক্ষেত্রে আপনার যদি হাসবেন্ড এটা নিয়ে কথা তোলে তাহলে আপনারা হয়তো কারণ খুঁজতে চাইবেন। তাই মেয়েদের বুকে কেন লোম হয় এ বিষয়গুলো কারণ সহকারে

আপনাদের সামনে যদি উপস্থাপন করতে পারি তাহলে সেটা আপনারা বুঝতে পারবেন এবং এই লোম হওয়ার কারণ এর পাশাপাশি এখান থেকে কিভাবে প্রতিকার পাওয়া যাবে সে বিষয়েও জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। মেয়েদের বুকে যদি লোম হয়ে থাকে তাহলে এটা হওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অথবা কোন কারণে হয়ে থাকে সে প্রসঙ্গে আজকে আলোচনা করতে চলেছি।

মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় এবং বিশেষ করে স্ত্রী রোগের সমস্যা গুলো খুবই প্রকট আকার ধারণ করে থাকে। যদি কোন মেয়ের বুকে লোম উঠে থাকে তাহলে সেটা পুরুষের মতো দেখায় এবং এই লোম উঠে থাকার কারণে আপনারা হয়তো অনেকেই অনেক চিন্তা করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে চান। নারীদের শুধু যে বুকে লোম উঠে বিষয়টা এমন নয় বরং বুক ছাড়াও ঠোঁটের ওপর লোম উঠে অথবা চিবুকে লোম উঠে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় আপনারা যদি এই লোম যখন ঘন আকার দেখতে পারবেন তখন অবশ্যই এটাকে তাদের মতে হারসুটিজম বলে।

সাধারণত মেয়ে শরীরের বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকার পাশাপাশি নারী শরীরে যেমন নারী হরমোন থাকা জরুরি তেমনি পুরুষদের শরীরে পুরুষ হরমোন থাকা জরুরী। নারীদের শরীরে পুরুষের হরমোন অর্থাৎ এন্ড্রোজেন হরমোনের পরিমাণ এতটাই অল্প যে একজন নারী তার নিজ গুণে বেড়ে উঠতে পারে। তবে কিছু কিছু কারণে নারীদের শরীরে এই পুরুষের এন্ড্রোজেন হরমোন চলে আসতে পারে অথবা জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এটা দেখা দিতে পারে।

যদি নারীদের ডিম্বাশয় থেকে অথবা এড্রেনাল গ্রন্থি থেকে এই হরমোন অধিক পরিমাণে দেখা দেয় তাহলে ওপরের উল্লেখিত ভাষায় অর্থাৎ ডাক্তারের ভাষায় হারসোটিসম অর্থাৎ অধিক লোম এর পরিমাণ দেখা দিতে পারে। তাই হরমোনের সমস্যার কারণে এই ধরনের বিষয়গুলো ফুটে উঠে এবং নারীরা তখন বুঝতে পারেন না এটার ক্ষেত্রে কোন ধরনের পরামর্শ গ্রহণ করলে ভাল হবে।

নারীদের শরীরে অর্থাৎ বুকে যদি এই ধরনের লোম দেখা যায় তাহলে আপনারা বিভিন্ন ধরনের ক্রিম অথবা বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে কোন হয়তো ফল পাবেন না। তাই হয়তো আপনারা অনেক চিন্তা করবেন যে এখান থেকে আসলে প্রতিকার পাওয়ার উপায় কি। তাই আপনাদের উদ্দেশ্যে বলবো যে আপনারা যদি এই ধরনের সমস্যায় পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই একজন হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করাটা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যখন হরমোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাবেন তখন তারা আপনাদেরকে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা বা টেস্ট প্রদান করতে পারে এবং সেগুলো সম্পন্ন করে আপনারা ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখাবেন।

যখন সেই টেস্টের রিপোর্ট চলে আসবে তখন সেই অনুযায়ী আপনারা হরমোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন অথবা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করলেও চলবে। তবে যদি চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন তাহলেও কোনো সমস্যা নেই। হরমোনের মাত্রা ঠিকঠাক ভাবে মানব শরীরে রাখার জন্য নিয়মিতভাবে আমাদেরকে হাঁটাহাঁটি করতে হবে এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানোর চেষ্টা করতে হবে।

যদি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেয়ে আমরা অভ্যস্ত হয়ে থাকি তাহলে সেটা কমিয়ে দিতে হবে এবং নিজ নিজ ধর্মীয় বিধি-বিধান অনুযায়ী সুস্থ এবং টেনশন মুক্ত জীবন যাপন করতে হবে। হরমোন জাতীয় সমস্যা থাকলে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করলে ডাক্তার আপনাদের যে ওষুধগুলো সাজেস্ট করবে সেটা আপনারা গ্রহণ করতে পারেন।

About শাহরিয়ার হোসেন 4779 Articles
Shahriar1.com ওয়েবসাইটে আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় যা কিছু দরকার সবকিছুই পাবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*