ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা / সব শিশুরই অন্তরে
মূলভাব: আজকের যারা শিশু তারাই পরিবার, সমাজ ও জাতির ভবিষ্যৎ। প্রতিটি শিশুর অন্তরে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অন্তর্নিহিত। শিশুদের জন্য তাই উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন।
সম্প্রসারিত ভাব: প্রত্যেক শিশু কোনো না কোনো এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। কারণ এখন যে শিশু সেই পরিবারের দায় দায়িত্ব গ্রহণ করবে। আবার এই শিশুই একসময় শিশুর জন্ম দিবে এবং এভাবেই তার বংশবৃদ্ধি চলবে। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। এখন যে শিশু সেই শিশুই ভবিষ্যতে একদিন রাষ্ট্রনায়ক, সেনাপতি, শ্রেষ্ঠ কবি, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, চিকিৎসক এবং অধ্যাপক হবে। আজ শিশুটি তার সংসার ও সমাজে যে দায়িত্ব পালন করছেন শিশুকেই বড় হয়ে একদিন সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বাংলা সাহিত্যের আঠারো শতকের শক্তিমান কবি ভারতচন্দ্র রায়ের একটি পঙ্ক্তি দিয়ে লেখাটি শুরু করলে কেমন হয়? ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’। মা-বাবা সব সময় তাঁদের সন্তানের জন্য এই মঙ্গল কামনাটিই করে থাকেন। সর্ব অর্থেই সন্তানের জন্য মা-বাবা দুজনই যেন নিবেদিত দুটো প্রাণ।
আমাদের বাঙালি সমাজে একজন মা সারাক্ষণ তাঁর সন্তান নিয়ে বেশ ঝুটঝামেলায় থাকেন। তাঁরা ঘর-সংসার সামলান, গৃহস্থালির বেশির ভাগ কাজ তিনি নিজেই করেন। সে ক্ষেত্রে একজন বাবাকে অবশ্যই তাঁর পাশে এসে দাঁড়াতে হবে এবং এর জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সংসারের কাজগুলোকে যথাসম্ভব ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং সন্তানকে যতটুকু সম্ভব সময় দেওয়া।
প্রত্যেক পিতা-মাতার দায়িত্ব তার শিশু সন্তানকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার। শিশু আদর্শ নাগরিক হয়ে জাতিকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দেবে, বিশ্বের দরবারে দেশ ও জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। ইংরেজ কবি ওয়ার্ডস ওয়ার্থ যথার্থই বলেছেন, “শিশুরাই জাতির পিতা”। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় অনেক শিশুই আজ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে অনেক শিশু সুকুমারবৃত্তির বিকাশ ঘটাতে পারছে না।
বর্তমানে আমরা আরো অনেক কিছু পরিলক্ষিত করছি যে অনেক শিশু যত্নের অভাবে সমাজে সঠিক ভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। কিছু কিছু শিশু দরিদ্রের অভাবে শিশুশ্রমে যুক্ত হয়ে পড়ছে। তাই আমাদের উচিত শিশুদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। প্রত্যেক শিশুর অন্তরের পিতাকে যথার্থই জাগিয়ে তুলতে হবে। এই শিশুই হয়তো একদিন হবে রবীন্দ্রনাথ, কবি নজরুল ইসলাম।
মন্তব্য: শিশুই হলো ভবিষ্যতের পিতা। অনুকূল পরিবেশের মাধ্যমে তাদের অন্তরের সুকুমারবৃত্তির বিকাশ ঘটাতে হবে। আমাদের শিশুদের এমন ভাবে মানুষ করেতে হবে যেন তারা দেশ এবং জাতির জন্য কল্যাণকর হয়ে বেড়ে ওঠে। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তারাই দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের এই ওয়েবসাইটের পেজে আপনারা বিভিন্ন ভাব সম্প্রসারণ সম্পর্কে জানতে পারছেন। এর পাশাপাশি ভাব সম্প্রসারণ এর আরও তথ্য পেতে চান তাহলে বাংলা ব্যাকরণ এর সহায়তা নিতে পারেন। শুধুমাত্র অনলাইনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, আপনারা ভাব সম্প্রসারণ এর আরো বিস্তারিত জানতে হলে আপনাদেরকে অবশ্যই আপনাদের নির্ধারীত পাঠ্যপুস্তক পড়তে হবে। আমাদের এই ওয়েবসাইট শুধুমাত্র আপনাদের পাঠ্যপুস্তক এর পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
আমরা চেষ্টা করেছি শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়গুলোকে সহজ ও সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করার। তাই আপনারা এই ওয়েবসাইট বেশি বেশি করে ভিজিট করুন এবং শিক্ষা সম্পর্কে আপডেট বিষয় সম্পর্কে জানতে থাকুন। আজ এ পর্যন্তই সকলকে ধন্যবাদ।
Leave a Reply