১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস নিয়ে কিছু কথা ২০২২

বিজয় দিবস উপলক্ষে আপনারা যদি কিছু কথা শুনতে চান অথবা এ বিষয়ে কিছু ধারণা অর্জন করতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইটের এই পোস্ট আপনাদেরকে সেই ধারণা প্রদান করবেন। বিশেষ করে যাদের বয়স কম এবং যারা বিজয় দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানেন না তারা আমাদের ওয়েবসাইটের এই পোষ্টের মাধ্যমে সঠিক তথ্য জেনে নিতে পারলে কোন জায়গায় বিজয় দিবস নিয়ে কিছু কথা বলতে পারবেন।

তাই আপনাদের চাহিদা অনুসরণ করে আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে বিজয় দিবস নিয়ে কিছু কথা জানিয়ে দিলে সেগুলো আপনারা বাস্তবিক জীবনে ব্যবহার করতে পারবেন এবং বিজয় দিবসের মহত্ব সকলের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। কেউ যদি আপনাকে বিজয় দিবস নিয়ে উপস্থিত বক্তৃতা প্রদান করতে বলে তাহলে সেই বক্তৃতা কিভাবে প্রদান করবেন তা আজকের এই পোস্ট থেকে জেনে নিতে পারলে সেটা আপনাকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার দিক থেকে এগিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

বিজয় দিবস বাঙ্গালীদের কাছে আনন্দের দিন হলেও প্রত্যেকটি আনন্দের দিনের পেছনে যে একটা মানুষের কত ত্যাগ স্বীকারের বিষয়গুলো থাকে তা আমাদেরকে জানতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষের সফলতার পেছনে যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার থাকে অথবা যে পরিমাণ কষ্ট লুকিয়ে থাকে তা যদি একটা মানুষ অনুধাবন করতে পারে তাহলেই বুঝতে পারবে যে বিজয় দিবস আনার পেছনে এদেশের মানুষ কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং কি পরিমাণ নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। যে দেশ অনেক আগেই স্বাধীন হতো সেই দেশ স্বাধীন করার জন্য আমাদের উপর যে পরিমাণ নির্যাতন করা হয়েছে তাতে করে আমরা আর থেমে থাকতে পারেনি এবং আমাদের কেউ আর দমিয়ে রাখতে পারেনি।

পাকিস্তানি আমল থেকে আমাদের উপরে যে পরিমাণ শোষণ এবং শাসন চালানো হয়েছে তাতে করে আমরা যদি আরো আগে থেকে সোচ্চার হতাম তাহলে হয়তো পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের ওপর এতটা শোষণ এবং শাসন চালাতে পারতো না। অবশেষে আমরা পেলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এবং তার সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তিনি আমাদের দেশকে স্বাধীন করার জন্য অথবা আমাদের দেশের দাবি-দাওয়া নিয়ে যখন পাকিস্তানীদের সঙ্গে বসল তখন শুরু হল বিভিন্ন ধরনের কোন্দল। কিন্তু আমরা সব সময় আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদেরকে যেমনটা মনে করা হতো তাতে করে আমরা তেমনটা না এবং আমরা দাবি অর্জনের জন্য যেকোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়ে ছিলাম।

ভাষার প্রতি আঘাত থেকে শুরু করে এদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে পরিমাণ শোষণ শাসন চালানো হয় এবং ধাপে ধাপে আমাদেরকে যেভাবে পর্যদস্ত করা হয় তাতে করে কোন বাঙালি এভাবে বসে থাকতে পারে না। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরেও যখন আমাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলো না তখন আমরা এ বিষয়ে আর চুপ করে থাকতে পারিনা। বছরে বছরে আমাদের প্রতি এ ধরনের অন্যায় অবিচার একটা সময় আমাদের জীবনে পাহাড় সমান বোঝার মত মনে হলো এবং এ থেকে প্রতিকারের জন্য এগিয়ে এলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি তার শ্রেষ্ঠ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এদেশের বাঙালির মধ্যে বুনে গেলেন স্বাধীনতার বীজ এবং বাঙালিরা মনে মনে প্রস্তুত হলেন যেন যে কোন মূল্যে দাবি আদায় করা যায়।

অবশেষে ২৫ শে মার্চের কালো রাতের ভেতর দিয়ে আমাদের দেশে যে পোড়া মাটির নীতি চালানো হলো তাতে করে আমরা আর বসে থাকলাম না এবং আমাদের ভেতরের মানুষগুলো জেগে ওঠে এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য সকল ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে আমরা প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলাম। সর্বোপরি ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে এবং দুই লক্ষ মা বোনের বাহিনীর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের দেশকে স্বাধীন করতে পেরেছি এবং স্মরণ করে সেই সকল ব্যক্তিদেরকে যারা আমাদের দেশকে স্বাধীন করার পেছনে তাদের জীবনকে ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং সকল ধরনের মূল্য দিয়েছেন। তাই বিজয় দিবস পালন করার মধ্য দিয়ে আমরা সেই সকল ব্যক্তিদেরকে মনে করবো এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে এই দেশকে অর্জন করার জন্য এই দিনটিকে আমরা উদযাপন করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button