সার্টিফিকেট সংশোধনের উপায় – অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত

আমাদের প্রত্যেকেরই সার্টিফিকেটের কোথাও না কোথাও ভুল থেকে থাকে। সার্টিফিকেট বা সনদ পত্রের ভুল সংশোধনের সঠিক নিয়ম জানিনা বলে অনেক ক্ষেত্রেই তা সংশোধন করা হয়ে উঠে না। সনদপত্র সার্টিফিকেট সংশোধনের খরচ, সঠিক নিয়ম এবং কিভাবে কি করতে হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কিভাবে সার্টিফিকেট সংশোধন করবেন

আপনি দুইভাবে সার্টিফিকেট সংশোধন করতে পারেন। অনলাইন এবং অফলাইন দুটি জনপ্রিয় মাধ্যম। বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য অনলাইন পদ্ধতি সুবিধাজনক। হাতে লিখলে বিভিন্ন সময় বানান ভুল হতে পারে। সে জন্য অনলাইনে আবেদন করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

অন্যদিকে দালালের খপ্পর থেকে বাঁচতে অনলাইনই একমাত্র মাধ্যম। এতে আপনি যাতায়াতের ভোগান্তি এড়াতে পারবেন। টেবিল থেকে টেবিলে ঘোরা লাগবেনা।

সার্টিফিকেট সংশোধনের ধাপসমূহ

সার্টিফিকেট সংশোধনী কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত যত্নের সাথে কমপ্লিট করতে হবে।

১/ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন

প্রথম ধাপে আপনাকে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হবে। বিজ্ঞাপনে অবশ্যই আপনার নাম, পরীক্ষার নাম, রোল নাম্বার, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার, পরীক্ষার সাল, পরীক্ষার বোর্ড ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে। আপনি কি সংশোধন করতে চান তা অবশ্যই উল্লেখ করা লাগবে। আপনি যদি পিতা মাতার নাম বা আপনার নাম কিংবা জন্ম সাল সংশোধন করতে চান তা লিখে দিতে হবে।

২/ নোটারি পাবলিক বা এফিডেভিট

নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেফিট করা লাগবে। আপনার বয়স যদি ১৮ বছরের বেশি হয় তাহলে আপনি নিজেই তা করতে পারবেন। আর ১৮ বছরের কম হলে আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করা লাগবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে চার্জ পরিশোধ করতে হবে।

সার্টিফিকেট সংশোধনীর খরচ

সার্টিফিকেট সংশোধনের খরচ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। অনলাইনে সম্পন্ন করলে খরচ এবং সরাসরি সার্টিফিকেট সংশোধন করলে আরেক খরচ। দালালদের মাধ্যমে করলে খরচ বেশি পড়বে।

অন্যদিকে আপনি নিজে নিজে করলেই অনেকগুলো খরচ সেভ করতে পারবেন। বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য খরচ এর তালিকা নিচে দেওয়া হল।

১/ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার খরচ ৫০০ টাকা বা কিছু বেশি হতে পারে।

২/ এফিডেভিট খরচ পাঁচশত টাকা।

৩/ আবেদন ফি ৫৫৮ টাকা প্রতিটি আলাদা সার্টিফিকেটের জন্য। আপনাকে এসএসসি এবং এইচএসসি সনদপত্র সংশোধন করতে মোট ১১১৬ টাকা।

৪/ সার্টিফিকেট উত্তোলন ফি আবেদন ফি এর সমান। সুতরাং এক্ষেত্রেও আপনাকে মোট ১১১৬ টাকা দিতে হবে।

তাহলে সর্বমোট খরচ সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো। তবে বিভিন্ন বোর্ডের হিসেবে খরচ কম বেশি হতে পারে।

পিতা মাতার নাম সংশোধনের জন্য আবেদন পত্র

অনেক সময় দেখা যায় আমাদের সার্টিফিকেটে পিতা মাতার নাম ভুল থাকে। সেগুলো সংশোধনের জন্য আমাদের আবেদন করা লাগে। তবে সঠিক নিয়ম জানিনা বলে ঠিক ভাবে আবেদন করতে পারিনা।

সে কারণে আমরা আপনাকে দেখাতে চলেছি কিভাবে পিতা মাতার নাম সংশোধনের জন্য আবেদন পত্র লিখবেন। আবেদনপত্র লিখা খুবই সহজ। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো উপস্থাপন করলেই হয়ে গেল আবেদনপত্র লেখা।

সার্টিফিকেট সংশোধন ফরম

আপনি অনলাইন থেকে সার্টিফিকেট সংশোধনের ফরম ডাউনলোড করতে পারবেন। বাংলাদেশ সরকারের ফরম বিষয়ক ওয়েবসাইট এর সকল আবেদন পত্রের ফরম পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো https://forms.gov.bd

এই ওয়েবসাইট ভিজিট করার মাধ্যমে আপনি বাংলাদেশের সকল ফরম পাবেন। নির্দিষ্ট ক্যাটেগরিতে গিয়ে সার্চ করার মাধ্যমে এক ক্লিকেই ডাউনলোড করে নিতে পারবেন সার্টিফিকেট বা সনদপত্র সংশোধনী ফরম।

পিএসসি সার্টিফিকেট সংশোধন

পিএসসি বা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সার্টিফিকেটে অনেকেরই ভুল থাকে। এটা শিক্ষা জীবনের প্রথম সার্টিফিকেট। সুতরাং কোনোক্রমে যদি এখানে ভুল হয়ে থাকে তাহলে তা সারা জীবন বয়ে বেড়ানো লাগবে।

সে কারণে আমরা কেউই চাইবো না আমাদের পিএসসি সার্টিফিকেটে কোন ভুল থাকুক। আপনি খুব সহজেই পি এস সি সার্টিফিকেট এর ভুল সংশোধন করে ফেলতে পারেন। এ জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। কতকগুলো প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাবমিট করার মাধ্যমে কাজটি সেরে ফেলতে পারবেন। এক্ষেত্রে খুবই সীমিত পরিমাণে খরচ হবে। সুতরাং চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

সার্টিফিকেট বয়স সংশোধন বা পরিবর্তন

সার্টিফিকেট বা সনদপত্রে যেমন নাম সংশোধন করা যায় তেমনি বয়স সংশোধন করা যায়। তবে সে ক্ষেত্রে বেশ কিছু ঝামেলা পোহাতে হয়।

আজকে আমরা আলোচনা করব কিভাবে জামেলা মুক্ত উপায়ে সার্টিফিকেটের বয়স সংশোধন করবেন।

এজন্য আপনাকে প্রথমেই জন্ম নিবন্ধনের তারিখ সংশোধন করতে হবে। আর আপনার যদি মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট হয়ে থাকে তাহলে আর জন্ম নিবন্ধন পরিবর্তন করতে পারবেন না।

যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন এবং সার্টিফিকেট এর বয়সে পার্থক্য থাকে তাহলে জন্ম নিবন্ধনের কপি নিয়ে শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। আপনি চাইলেই শিক্ষাবোর্ডের সরাসরি যোগাযোগ করে কাজটি সেরে নিতে পারেন। এজন্য সনদপত্র সংশোধন চার্জ পরিশোধ করে সঠিকভাবে নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

নাম সংশোধন মাদ্রাসা বোর্ড

নাম সংশোধন ফরম কুমিল্লা বোর্ড
মাধ্যমিক সার্টিফিকেটে নাম সংশোধনের আবেদনপত্র ঢাকা বোর্ড

Updated: August 2, 2020 — 9:50 am

The Author

শাহরিয়ার হোসেন

শাহরিয়ার হোসেন একজন ক্ষুদ্র ব্লগার। লিখতে খুব ভালোবাসেন। অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগে ২০১৮ সালের জানুয়ারী থেকে লিখছেন। কাজের চেয়ে নিজের নাম প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। সে চিন্তা থেকেই এই ব্লগের উৎপত্তি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স কমপ্লিট করেছেন। বর্তমানে একই বিভাগে মাস্টার্স এ অধ্যায়নরত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *