কলেজের বেতন মুওকুফের জন্য আবেদন দরখাস্ত নমুনা

কলেজের বেতন মুওকুফের জন্য আবেদন দরখাস্ত নমুনা

দরিদ্র তার কারণে ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ পায় না। অনেক সময় মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েরা তাদের লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর আর লেখাপড়া কন্টিনিউ করতে পারে না। অনেকে ব্যক্তিগত কারণে লেখাপড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে লেখাপড়া বাদ দিয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের সমাজে এরকম অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা লেখাপড়া করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সমস্যায় পড়ে। আমাদের সমাজে অনেক ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়ার তীব্র ইচ্ছা নিয়ে আর্থিক দরিদ্রতার কারণে লেখাপড়া থেকে বিরত থাকে। তাই আমাদের উচিত দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক অনুদান দিয়ে লেখাপড়ার সুযোগ করে দেওয়া। বর্তমানে এরকম উন্নয়নমূলক নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান ও এনজিও গড়ে উঠেছে যারা মধ্যবিত্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য আর্থিক সহায়তা করে থাকে।

অনেক সময় মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে মেয়েরা সাময়িক আর্থিক সমস্যায় ভোগে। তখন তারা স্কুল কলেজের সাময়িক বেতন দিতে পারে না। তখন তারা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিকট দরখাস্ত লিখে কিছু মাসিক বেতন ক্ষমা করার প্রার্থনা করেন। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী কোন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে লেখাপড়া করানোর সুযোগ রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অপশন রয়েছে যে তারা তাদের ব্যক্তিগত জীবনে অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হলে তারা প্রধান শিক্ষকের নিকট তার সমস্যার কথা জানাতে পারে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন রকমের ফান্ড থাকে। যেগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান প্রদান। তাই আমাদের কোন বন্ধু যদি পারিবারিক অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে থাকে তাহলে সে নিশ্চয় তার সমস্যার সমাধান করে নিতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন পড়বে একটি বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য দরখাস্ত প্রদানের। এজন্য একটি সুন্দর ও যুক্তি সম্মত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দরখাস্ত তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নিকট পেশ করতে হবে।

এই বিষয়ের উপর দরখাস্ত টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্যের উপর নির্ভর করে। সুতরাং গুগলে উক্ত দরখাস্তের জন্য বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা থাকে না। কিন্তু আমাদের অনেক ছাত্র-ছাত্রী বন্ধুগণ এর জন্য সন্ধান করে থাকে। তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা আমাদের অনুচ্ছেদে একটি সুন্দর দরখাস্ত উদাহরণস্বরূপ দেখাতে পারি। চলুন দেখে নিন কিভাবে
কলেজের বেতন মওকুফের জন্য আবেদন দরখাস্ত লিখতে হয় সেটার নমুনা।

যে তারিখে দরখাস্তটি লিখবেন অবশ্যই সেই তারিখটা উল্লেখ করতে হবে। তারপর যথাযথ নিয়মে আপনার সঠিক তথ্য গুলো প্রদান করে একটি দরখাস্ত তৈরি করে নিতে পারবেন।

বরাবর,
প্রধান শিক্ষক,
আপনার কলেজের নাম উল্লেখ করবেন, এবং জায়গার নাম।
বিষয়: বেতন মওকুফের জন্য আবেদন।
মহোদয়
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল ও নৈতিক চরিত্রের দিক থেকে আমার কৃতিত্ব এবং সুনাম রয়েছে। তাছাড়া আমি আপনার কলেজের জন্য খেলাধুলায় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিজয়ী হয়ে বয়ে এনেছি সম্মান এবং সংবর্ধনা।
দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমার পিতার শারীরিক অসুস্থতার জন্য অর্থনৈতিকভাবে আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। আমি এবং আমার পরিবার চরম সঙ্কটে পড়েছি। আমার আরো তিনটা ছোট ভাই বোন রয়েছে। তাদের লেখাপড়ার খরচ আমাদের পক্ষে বয়ে আনা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। উক্ত অবস্থায় আমার লেখাপড়ার চেয়েও বেশি জরুরী আমার ছোট ছোট তিন ভাই বোনের লেখাপড়া। কারন আমার ছোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে। এবং আমার ছোট দুই ভাই হাই স্কুলের ছাত্র। তাদের একজন অষ্টম শ্রেণী এবং আর একজন দশম শ্রেণীতে পড়ে। আমার মায়ের পক্ষে আমাদের চার ভাই বোনের লেখাপড়ার খরচটা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এবং আমার বাবার শারীরিক অসুস্থতার জন্য তার ঔষধ এবং চিকিৎসার খরচটাও রয়েছে।

তাই বর্তমানে আমরা আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছি। কলেজের বেতন তিন মাসের বকেয়া রয়ে গেছে। এমত অবস্থায়, আপনার সহানুভূতি ও সহযোগিতা ছাড়া আমার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

সুতরাং বিনীত প্রার্থনা এই যে ,আপনি অনুগ্রহ করে আমার কলেজের বেতন মুওকুফ করে আমাকে আমার লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য দানে ব্যতীত করবেন।

About শাহরিয়ার হোসেন 4781 Articles
Shahriar1.com ওয়েবসাইটে আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় যা কিছু দরকার সবকিছুই পাবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*