ভাবসম্প্রসারণ: দুঃখের মতাে এত বড় পরশপাথর আর নেই Dukkher Moto Ato Boro Poroshpathor R Nai

ভাবসম্প্রসারণ: দুঃখের মতাে এত বড় পরশপাথর আর নেই

মূলভাব: দুঃখ মানবজীবনকে শক্তি ও সাহস দান করে। দুঃখের আগুনে পুড়ে মানবজীবন হয় সোনার মতো খাঁটি। এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জীবনে রয়েছে সুখ-দুঃখের সহাবস্থান। একটিকে ছাড়া অন্যটিকে মানুষ সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। দুঃখের সংস্পর্শে না এলে মানুষের স্বীয় সত্তা ও অন্তর শক্তি সঠিকভাবে জাগ্রত হয় না। দুঃখের পরশেই মানুষের সকল দৈন্য দূর করে তাকে খাঁটি মানুষের পরিণত করে।

সম্প্রসারিত ভাব: সুখ-দুঃখ মিলেই মানব জীবন। দুঃখ মানুষকে আত্মসচেতন ও সংগ্রামী করে।সুখ বিলাসী মানুষের জীবনের সারবত্তা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারে না। দুঃখে পড়লে মানুষ সুখের যথার্থ মর্ম বুঝতে পারে, জীবনের প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে। দুঃখের দরুণ দহন শেষে মানুষর জীবনে যে সুখ আসে তা অনাবিল ও অতুলনীয়। দুঃখই পারে মানুষের অন্তর্নিহিত মনুষ্যত্ব ও বিবেককে জাগ্রত করতে ও মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করতে। দুঃখ মোকাবেলা করার শক্তি দিয়েই মানুষ আপন শক্তির পরিচয় দিতে পারে।

দুঃখ মানুষের সকল জনতা ও জন্য দূর করে তাকে কর্মতৎপর করে। দুঃখের ভিতর দিয়েই মানুষ জীবন সাধনায় সিদ্ধিলাভ এবং বৃহত্তর জীবনকে উপলব্ধি করে। দুঃখের আগুনে পুড়ে মানুষের জীবন সকল প্রকার ক্লেদ ও গ্লানি থেকে মুক্ত হয়। পরশ পাথর নিকৃষ্ট ধাতুকে স্বর্গে পরিণত করে। দুঃখও তেমনি মাটির মানুষকে খাটি করে, সত্যাশ্রয়ী, আত্মসচেতন ও কর্মঠ করে। দুঃখের স্পর্শে মানুষের ভেতরকার আত্মশক্তি জাগ্রত হয়।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ” দুঃখই জগতে একমাত্র সকল পদার্থের মূল্য। মাতৃস্নেহের মূল্য দুঃখে, পতিব্রতের মূল্য দুঃখে, বীর্যের মূল্য দুঃখে, পণ্যের মূল্য দুঃখে।” জগতের সব মূল্যবান সম্পদ দুঃখের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। দুঃখ ছাড়া প্রকৃত সুখ লাভ করা সম্ভব নয়।

পৃথিবীতে মহৎ কিছু অর্জন করতে হলে দুঃখ সইতে হয়। প্রবাদে আছে-“কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মেলে না”অর্থাৎ কষ্টছাড়া কেউ জীবনে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছতে পারে না। তাই পৃথিবীতে মনীষীরা দুঃখকে তুলনা করেছেন পরশপাথরের সঙ্গে। পরশপাথরের ছোঁয়ায় লোহা যেমন স্বর্ণপিণ্ডে রূপান্তরিত হয়, দুঃখও তেমনি মানুষের জীবনকে নতুনরূপ দেয়, সকল ক্লেদ ও গ্লানি থেকে মুক্ত ও নির্মল করে। দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ-তিতিক্ষা ছাড়া জীবনের স্বর্ণশিখরে আরোহণ অসম্ভব।

পৃথিবীর বহু মনীষী দুঃখকে অন্তর দিয়ে অনুভব করেছিলন, দুঃখ বরণ করে নিয়েছিলেন বলেই আজও তাঁরা স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে আছেন। মহানবী হযরত মোহাম্মদ(স:), যীশু খ্রিস্ট, গৌতম বুদ্ধ প্রমুখ মহান ধর্মবেত্তা দুঃখকে জয় করে খাঁটি মানুষে পরিণত হয়েছিলেন, কাজ করে ছিলেন সমগ্র মানব জাতির জন্য।

মন্তব্য: পরশপাথর যেমন অন্য বস্তুকে মূল্যবান করে তোলে দুঃখও তেমনি মানবজীবনকে সাফল্য পথে অগ্রসর করে। বস্তুত মানুষের মনুষ্যত্ব ও অন্তর্নিহিত গুণাবলীর বিকাশের জন্য দুঃখ মানুষের জীবনে পরশপাথরের মতোই কাজ করে।

শিক্ষার্থীবৃন্দ উপরের যে ভাব সম্প্রসারণ কী নিয়ে আলোচনা করা হলো সেটি অবশ্যই আপনাদের পরীক্ষায় সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। আমাদের এই ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র শিক্ষা বিষয়ক নয় এছাড়াও অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়ে থাকে। আপনারা অবশ্যই এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন তাহলে শিক্ষাবিষয়ক তথ্য ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিক সংবাদ দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক সময়ে পেয়ে যাবেন। আজ এ পর্যন্তই আগামীতে অন্য কোন টপিক নিয়ে আবার আমাদের ওয়েবসাইটে আলোচনা করা হবে সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।

About শাহরিয়ার হোসেন 4781 Articles
Shahriar1.com ওয়েবসাইটে আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় যা কিছু দরকার সবকিছুই পাবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*