ইসলাম ধর্মের মূল স্তম্ভ গুলোর মধ্যে রোজা অন্যতম। আর মহান আল্লাহতালা এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অবস্থায় মানব জাতির জন্য বিশেষ কিছু হুকুম পালন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই হুকুম গুলোর মধ্যে রোজা একটি। কারণ এই পৃথিবীতে একজন মানুষের আয়ু খুবই ক্ষণস্থায়ী আর এই ছোট সময়ে মহান আল্লাহতালার সকল হুকুম মেনে তার সন্তুষ্ট অর্জন করতে হবে। কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি মহান আল্লাহতালার হুকুম থেকে নিজেকে বিরত রাখে তার জন্য মৃত্যুর পর ভয়ংকর শাস্তি অপেক্ষা করছে। তাই আপনাদের সুবিধার জন্য আমরা আমাদের আজকের আর্টিকেলটিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। আপনাদের জন্য আমরা আলোচনা করব আমি রোজা রাখব in english এই বিষয়টি সম্পর্কে। আমাদের মধ্যে অনেক মুসলিম ব্যক্তি রয়েছেন যারা এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। আর এই বিষয়টি জানার জন্য আপনারা ইন্টারনেটে অনেক জায়গায় অনুসন্ধান করছেন। তাই আপনাদের জন্য আমাদের আজকের আর্টিকেলটি তে এই প্রসঙ্গে আলোচনা করা হলো।
মূলত রোজা শব্দের অর্থ বিরত থাকা। কোন মুসলিম ব্যক্তি কে রোজা পালন করতে হলে ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী তাকে সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে মাগরিব পর্যন্ত সারাদিন না খেয়ে রোজা পালন করতে হয়। মূলত না খেয়ে একজন মুসলিম ব্যক্তি রোজা পালন করলে সে রোজা মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয় না। রোজা থেকে একজন মুসলিম ব্যক্তিকে সময় মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং মহান আল্লাহতালার নিষেধ অনুযায়ী সকল ধরনের পাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। রোজা থাকা অবস্থায় মিথ্যাকে বর্জন করতে হবে, রোজা থাকা অবস্থায় খারাপ কোন কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর মহান আল্লাহতালার কাছে যেই ইবাদতটি খুব পছন্দের তা হলো রমজান মাসের রোজা। তাই একজন ঈমানদার ব্যক্তিকে মহান আল্লাহতালার নৈকট্য অর্জন করতে হলে নামাজের পাশাপাশি রোজা রাখাটা ফরজ একটি ইবাদত। এক হাদীসে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে ঈমানকে মজবুত করার জন্য আমরা যেন নিয়মিত রোজা পালন করি।
আল্লাহ তাআলা মানুষ কে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেভাবে আগের নবী-রাসুলদের উম্মতদের নির্দেশ দিয়ে ছিলেন। কুরআনের রমজান মাসে রোজা সম্পর্কে বলা হয়েছে তোমাদের মধ্যে যদি রমজান মাস আসে তাহলে তোমরা তা সঠিকভাবে পালন করবে কারণ আরবি সারা বছরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হল রমজান মাস আর এই মাসে ইবাদত করলে সত্তর গুণ সওয়াব বেশি পাওয়া যায়। কোন ব্যক্তি যদি রমজান মাসে রোজা করে থাকে তাহলে সে নফল নামাজের সোয়াব ফরজ নামাজের মত পাবে। তাহলে এখানে বোঝা যায় ফরজ নামাজের সম্মান কতটুকু বৃদ্ধি করা হয়েছে
কুরআনের এক আয়াতে স্পষ্টভাবে রোজা সম্পর্কে বলা হয়েছে একজন ব্যক্তির রোজা রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো দুনিয়ার সব ধরনের পাপ থেকে বিরত থাকা বা চুপ থাকা। আর এতে যেমন মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন হবে। তেমনি পাশাপাশি গোনাহ থেকেও বেঁচে থাকা যাবে। রোজা থাকলে শুধু পানাহার থেকে নয় অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা যায়। তাই পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করার পরে মহান আল্লাহতালা এই মানবজাতির উপর রোজা ফরজ করে দেয়।
প্রতিটি ইবাদতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় মাথায় রেখে একজন মুসলিম ব্যক্তিকে ইবাদত করতে হবে। কারণ ইবাদত এমন একটি বিষয় সঠিক নিয়ম অনুসরণ মেনে না করলে ইবাদত মহান আল্লাহতালার দরবারে কবুল হয় না। আর সে নিয়মের গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি হলো রোজা থাকার নিয়ত। একজন ব্যক্তি যে কোন ভাষায় মহান আল্লাহ তালার কাছে নিয়ত করতে পারে। কেউ যদি আরবিতে না পারে বাংলা ইংরেজি যে কোন ভাষায় নিয়ত করলে সেটা নিয়ত হয়ে যায়। রোজা রাখার নিয়তের ক্ষেত্রে কেউ যদি
মহান আল্লাহ তালার কাছে বলেন আল্লাহ যদি চাই তো আগামীকাল আমি রোজা রাখব। তবুও তার নিয়ত শুদ্ধ হবে।কোন ব্যক্তি যদি এই কথাটি মনে মনে বলে থাকে তবে তার নিয়ত হয়ে যাবে কেউ যদি মুখে উচ্চারণ না করে সে ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই। তবু তার নিয়ত হয়ে যাবে। তাছাড়া কেউ রোজার উদ্দেশ্যে সাহরী খেলেই রোজার নিয়ত হয়ে যায়।
Leave a Reply