যেকোন বিপদে যাকে সবার আগে পাওয়া যায় সে হচ্ছে মা। যেকোন সফলতায় যে সবচেয়ে বেশি খুশি হয় সেও মা। সন্তানের জন্য মায়ের ভালোবাসা কখনো কমে না। সন্তানের মঙ্গলের জন্য মায়ের যে কি পরিশ্রম তা কখনো পরিমাপ করা সম্ভব হয় না। সন্তান জন্মদান থেকে শুরু করে সেই সন্তানের ভালো - মন্দ সবকিছুতে মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। মাকে ছাড়া কোন সন্তানের জীবনই পরিপূর্ণ সুখী হতে পারে না। সন্তানের জীবনে মাযের ভালোবাসা হলো সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাই একজন সন্তান হিসেবে তার জীবনে সবচেযে গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি হিসেবে মাকে রাখা উচিত।
মাকে ছাড়া কোন পরিবারই পূর্ণতা পায় না। একটি সংসারকে মা যতটা আগলে রাখতে পারে, ততটা সুন্দর করে কেউ আগলে রাখতে পারে না৷ মা ই সবার ভালো- মন্দের বিষয়টি সবচেয়ে ভালো বুঝে৷ মায়ের মতো করে কেউ কখনো ভালোবাসতে পারে না৷ যত্ন নিতে পারে না। একজন সন্তানের কাছে সবচেয়ে ভরসার স্থল হলো তার মা৷ তাই মাকে কখনো কোন অবস্থাতেই কষ্ট দেওয়া উচিত না।
কিন্তু অনেক সময় অনেকেই মায়ের ভালোবাসার কথা মনে রাখে না। নিজেদেরকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সফল হওয়ার পর অনেকেই ভূলে যায় যে তার সফলতার পিছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল। মা তার জন্য কত কিছু করেছিল এগুলো অনেকেই মনে রাখে না। আর তাই দেখা যায় সন্তানের কাছে যেই আশ্রয়টি সবচেযে নিরাপদ ছিল, সেই আশ্রয়স্থলটিকে অবহেলা করে কোন খোঁজ - খবর রাখে না। শেষ বয়সে তাকে যত্ন করে না।
আবার অনেকে তো মাকে কত ভারী বোঝা মনে করে। তাকে তো নিজেরদের কাছে পর্যন্ত রাখে না। তাকে বিদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। অনেক সময় সে ভালো আছে কি না সেই খবরটুকুও রাখে না। তাকে দেখতেও যায় না৷ তাকে কোন গুরুত্বও দেয় না। কিন্তু একসময় এই মা নামক মানুষটায় তার সবচেয়ে আপনজন ছিল।
সন্তান যেমনই হোক না কেন। হোক সে পাগল অথবা অসুস্থ। সবাই তাকে ছেড়ে গেলেও মা কখনো তাকে ছেড়ে যায় না। যত কঠিক পরিস্থিতিই হোক না কেন মা সব সময় সন্তানকে আগলে রাখে। তাই প্রত্যেকটা সন্তানের উচিত মা যেমন ছোটবেলায় তাকে আগলে রেখেছে, ঠিক তেমন করেই শেষ বয়সে মাকেও আগলে রাখা। মায়ের সেবা করা। মাকে ভালো রাখা, তাকে ভালোবাসা। আর তাই তাকে বিদ্ধাশ্রমে না পাঠিয়ে তার যত্ন নিতে হবে। সবার সাথে বাসায় রাখতে হবে।
আমরা অনেকেই মাকে অবহেলা করি, অগাহ্য করি, যা কোনভাবেই উচিত নয়। তাই মা যেমন করে সন্তানকে ভালোবাসে তেমন করে প্রত্যেকটা সন্তানের উচিত মাকে ভালোবাসা। বিপদে -আপদে, সুখে-দুঃখে সবসময় মায়ের পাশে থাকা। তাহলে মা যেমন ভালো থাকবে, তেমন সন্তান হিসেবে নিজেরও ভালো লাগবে।
Leave a Reply