পিএসসি সার্টিফিকেট সংশোধন ফরম

প্রিয় ভিজিটর, আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করার জন্য আপনাদেরকে স্বাগতম জানাই। আপনারা যদি পিএসসি সার্টিফিকেট সংশোধন ফরম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য জেনে নিতে পারবেন। আমাদের ওয়েবসাইটে এই সংশোধন ফরম কিভাবে তৈরি করবেন এবং সংশোধন ফরম এর সাথে আবেদন পত্র কিভাবে লিখবেন তার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিব।

তাই আপনারা যারা পি এস সি সার্টিফিকেট সংশোধন করতে চান অথবা কোন তথ্য গত ভুল যদি সংশোধন করার প্রয়োজন হয়ে ওঠে তাহলে অবশ্যই আপনারা আমাদের ওয়েবসাইটের সার্টিফিকেট সংশোধন ফরম দেখে নিবেন এবং সেই ফ্রম অনুযায়ী আপনারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিকট একটি আবেদনপত্র দাখিল করবেন। তাহলে চলুন আমরা আমাদের ওয়েবসাইটের নিজের দিকে যাই এবং সেখান থেকে বিএসসি সার্টিফিকেট সংশোধন ফরম দেখে নিই।

অনেক সময় দেখা যায় যে, অনিচ্ছাকৃতভাবে পিএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেটের নাম অথবা জন্মতারিখ ভুল চলে আসে। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর নিজের নাম অথবা তার পিতার নাম অথবা তার মাতার নাম ভুল হয়ে যায়। যদিও পি এস সি সার্টিফিকেট জীবনের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে খুব একটা প্রভাব ফেলে না তারপরও একটা সার্টিফিকেট যখন থাকবে তখন আপনার মনে সেটা অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

তাই আপনি যদি আপনার পি এস সি সার্টিফিকেট সংশোধন করতে চান তাহলে এক্ষেত্রে খুবই সহজ প্রক্রিয়া আছে। দেখা গেছে যে অন্যান্য সার্টিফিকেট সংশোধন করতে গিয়ে ব্যাংক ড্রাফট করতে হয়, পেপারে এড দিতে হয়, নোটারি বা এফিডেভিট করা লাগে। তাছাড়াও টাকা পয়সার দিক দিয়ে অনেক খরচ করতে হয়। তাছাড়া সেগুলো অনেক সময়ের ব্যাপার এবং যদি আপনি দালাল মারফতি কাজ করাতে চান তাহলে অনেক সময় লেগে যাবে এবং অনেক টাকা খরচ হয়ে যাবে।

তাই পি এস সি সার্টিফিকেট সংশোধন করার ক্ষেত্রে আপনাদের খুবই সহজ নিয়ম ও প্রক্রিয়া বলে দিব। এই নিয়মগুলো অনুসরণ করলেই আপনারা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বা থানা শিক্ষা অফিসার এর নিকটে গিয়ে সার্টিফিকেট সংশোধন করে নিতে পারবেন। তার জন্য আপনাকে যে আবেদন ফরম এবং কাগজপত্র লাগবে সেগুলো আমরা জানিয়ে দেবো এই পোস্টে। মূলকথা হলো, পি এস সি সার্টিফিকেট সংশোধন করতে গেলে অনলাইনের মাধ্যমে করা যাবে না।

এটি সম্পূর্ণ অফলাইনের কাজ এবং নিজে থেকেই কাজটি আপনারা করতে পারবেন। তাই আপনারা যদি পি এস সি সার্টিফিকেট সংশোধন করতে চান তাহলে সাথে একটি আবেদনপত্র নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে যাবেন। এই আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন সনদ, পিতা ও মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে যাবেন। তাই নিচে আপনাদের সেই আবেদন পত্র কিভাবে লিখতে হবে বা সেই ফরম কিভাবে তৈরি করতে হবে তা লিখে দেওয়া হল।

সাধারনত আবেদন পত্র ফরম কিভাবে লিখতে হয় সেভাবে আপনারা লিখবেন। সেখানে বরাবর প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকাকে জানাবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম দেবেন এবং তারিখ উল্লেখ করবেন। তারপরে আপনার সার্টিফিকেটের যে অংশ পরিবর্তন করা লাগবে সেই অংশের নাম বিষয়ে লিখবেন। এভাবে লিখতে পারেন (শিক্ষার্থীর নাম সংশোধন/জন্ম তারিখ সংশোধন/পিতার নাম সংশোধন/মাতার নাম সংশোধন প্রসঙ্গে।

তারপরে যে আবেদনপত্রটি আপনার লিখবেন সে আবেদনপত্রটির ভাষা হতে হবে শিক্ষার্থীর ভাষায়। অর্থাৎ সেই শিক্ষার্থীতে উল্লেখিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট সালে উর্ত্তীন্ন হয়েছে এবং কোন জিপিএ পেয়েছে তা উল্লেখ করবেন। তারপরে আপ্নারা সেই সমস্যার কথা তুলে ধরবেন এবং সেই সমস্যাটি সমাধান করে দিতে প্রধান শিক্ষকের মর্জি হয় লিখে তারপর আবার আবেদন করবেন।

এই আবেদনপত্রে আপনারা নিচে চারটি দাগের একটি ছক আঁকবেন। এই ছকে কলাম থাকবে তিনটি। এই কলামে আপনারা শিক্ষার্থীর নাম, জন্ম তারিখ, পিতার নাম, মাতার নাম লিখবেন। আপনারা দ্বিতীয় কলামে ভুল তথ্য এবং তৃতীয় কলামে সঠিক তথ্য নামক একটি ঘর কাটবেন। সার্টিফিকেটের যার তথ্য ভুল হয়েছে তার তথ্যের ঘরে শুধু সেই তথ্যটি লিখুন এবং সঠিক তথ্য কিভাবে তা লিখে দেন। তবে যে তথ্য ভুল হয়নি সে তথ্য ফাঁকা ঘরে লেখার দরকার নেই। সার্টিফিকেট সংশোধনের ক্ষেত্রে আপনারা এই আবেদন ফরমটি কাজে লাগাতে পারেন। আপনারা যদি আরো মার্জিত ভাষায় এবং সাবলীল ভাষায় এই আবেদন ফরম লিখতে চান তাহলে তা করতে পারেন।

আপনাদের এ আবেদন পত্র এবং উপরে উল্লেখিত কাগজপত্রাদি নিয়ে চলে যাবেন প্রধান শিক্ষকের কাছে। তবে আগের প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা পরিবর্তন হয়ে গেলে বর্তমানে যে প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা রয়েছে তার বরাবর এ সকল কাগজপত্র দেখাবেন এবং সার্টিফিকেট সংশোধন প্রসঙ্গে তাদেরকে উল্লেখিত বিষয়টির খুলে বলবেন। আপনাদের দেওয়া তথ্যাদি তারা যাচাই-বাছাই করে সত্যায়িত করে দেবে এবং সুপারিশ করে দেবে। এসকল কাগজপত্রাদি নিয়ে আপনি চলে যাবেন আপনার নিকটস্থ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে।

সেখানে গিয়ে আপনারা এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরবেন এবং প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে সুপারিশ নিয়ে কি কি কাগজপত্র নিয়ে গেছেন সেগুলো দেখাবেন। সেগুলো দেখালে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আপনাদের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবেন এবং তিনি যদি এতে সম্মতি প্রদান করেন তাহলে আপনাদের পিএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেটের কপি চাইবেন। আপনারা সেই কপিটি প্রদান করবেন এবং অপেক্ষা করবেন।

এক্ষেত্রে সময় খুবই কম লাগে। যদি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের হাতে তেমন কোন কাজ না থাকে তাহলে তিনি দিনের দিন এই সার্টিফিকেটটি আপনাদের সংশোধন করে দিতে পারেন। আর যদি খুব বেশি দেরি হয় তাহলে তিন দিনের ভেতরেই আপনারাই সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন। মূলত উপজেলা শিক্ষা অফিসার আপনাদের সেই সার্টিফিকেটের ভুল তথ্য টিকেটে দিয়ে তিনি মার্জিত ভাষায় সঠিক তথ্যটি লিখবেন এবং তিনি যে সঠিক তথ্যটি লিখেছেন তার জন্য সেখানে তার সিল এবং সিগনেচার দেওয়া থাকবে।

আশাকরি সকলেই এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। তাহলে উপরে উল্লেখিত আবেদন ফরম অনুযায়ী আপনারা সারটিফিকেট সংশোধন ফরম লিখে নিয়ে প্রধান শিক্ষক বরাবর এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে সংশোধন করে নিতে পারেন।

Related Articles

5 Comments

  1. আমি ২০০৮ সালের পরিক্ষার্থী ছিলাম।নাম সংশোধন করতে গিয়েছিলাম। বলে যে তখনকার তথ্য নাকি তাদের কাছে নেই। কি করতে পারি?
    পিএসসি’র সনদ ছাড়াই কি jsc,ssc,hsc এর সনদ সংশোধন করতে পারবো। বা কিভাবে সংশোধন করবো??
    বোর্ড ঃ দিনাজপুর

    1. আমিও গিয়ে ছিলাম। আগে পি এস সি সংশোধন করে পরে জেএসসি, এসএসসি ও এইচ এস সি করতে হবে।

    2. Psc এর সার্টিফিকেট ছাড়াই আপনি সকল সার্টিফিকেট সংশোধন করতে পারবেন

  2. nid তে মায়ের নাম আছে বেগম রোজী আক্তার কিন্তু মেয়ের psc তে রোজী আক্তার। নাম সংশোধন করতে হবে কি?

  3. আমি ২০১১ সালের পিএসসি পরীক্ষার্থী। আমার মায়ের নামটা ভুল ছিল, আমি এটা সংশোধন করতে চাই।কিভাবে আবেদন লিখবো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button