আমাদের ওয়েবসাইটে শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ের উপর তথ্য প্রচার করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে চাচ্ছেন তাদের ভালো ফলাফলের জন্য আমাদের এই ওয়েবসাইট সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে চেষ্টা করা হয় প্রত্যেকটা বিষয়ের টপিক নিয়ে আলোচনা করার। আমরা বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ব্যাকরণ অংশের ভাব-সম্প্রসারণ নিয়ে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করছি আমাদের এই ওয়েবসাইটে। যারা ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য আমাদের এই আয়োজন। আমরা আজ যে ভাব সম্প্রসারণ টি নিয়ে আলোচনা করব সেটি নিম্নে তুলে ধরা হলো:
ভাব সম্প্রসারণ:
রাত যত গভীর হয়, প্রভাত তত নিকটে আসে।
মূলভাব: পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে কারো বিদায়ঘণ্টা বেজে ওঠে, আবার সেই সাথে কারো আগমনী বার্তা ধ্বনিত হয়। সুখ-দুঃখ, মঙ্গল-অমঙ্গল, দিন-রাত ইত্যাদি নিয়েই পৃথিবীর গতিপ্রবাহ সচল। দুঃখ যত বাড়তে থাকে, সুখও তত কাছাকাছি আসে।
সম্প্রসারিত ভাব: স্রষ্টার সৃষ্ঠ পৃথিবীতে সব কিছুই নিয়মের অধীন। প্রকৃতির নিয়মে প্রতিনিয়ত আগমন ও প্রত্যাগমন ঘটে দিন ও রাতের। স্রষ্টার এ বিধান সম্পূর্ণ অলঙ্ঘনীয়। রাতের শেষ যাত্রা ঘটে প্রভাত রবির দিকে। কিন্তু এ প্রভাত খুব সহজেই আসেনা। তাকে আসতে হয় রাতের সীমানা পেরিয়ে। রাত যতই কাল প্রবাহ অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, তখনই প্রভাতের আগমন লক্ষ্য করা যায়। মূলত প্রভাত রাতের গতিশীলতার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
পৃথিবীকে যদি বৈপরীত্যের সমাহার বলা হয় তাহলে বোধ করি ভুল হয় না। বহু বিপরীত এখানে পাশাপাশি অবস্থান করে। জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকার ইত্যাদি অনেক বিপরীতের নাম উল্লেখ করা যায়। এই বৈপরীত্য প্রকৃতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করে। একটি আছে বলেই অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব হয়। কেবল তা-ই নয়, একটি অপরটিকে স্পষ্ট করে তোলে। আলো ও অন্ধকারের প্রসঙ্গে বলা যায়, আলোর পরই অন্ধকার আসে কিংবা অন্ধকারের পরই আলো আসে।
অন্ধকার স্বাভাবিকভাবেই ভীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত। মানুষ অন্ধকার চায় না, সে চায় আলোর পরশ। কিন্তু অন্ধকারকে আসলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেননা তার পরই আছে আলো। তাই অন্ধকার যত প্রগাঢ় হতে থাকে অর্থাৎ রাত্রিকাল যত এগোতে থাকে, প্রভাতের সময় ততই এগিয়ে আসে। এটি সৃষ্টির নিয়ম। এ সত্য উপলব্ধি করা সম্ভব হলে মানুষকে দুঃখে কাতর ও হতাশায় নিমজ্জিত হতে হয় না।
মানবজীবনে বৈচিত্র্যময় জীবনধারার সাথে আলোচ্য কথাটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়। জীবন চলার পথে মানুষের আছে হাসি কান্না আনন্দ বেদনা সুখ-দুঃখ সফলতা-ব্যর্থতা নানা দিক। এটি যেন চক্রাকারে প্রতিনিয়ত আবর্তিত হচ্ছে। বহু চড়াই-উতরাই পার হয়ে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে মানুষ একের পর এক অর্জন করেছেন সোনালী বিজয় জন্ম দিয়েছে নতুন সভ্যতা নতুন ইতিহাস।
রাত এখানে দুঃখ কষ্টের প্রতীক। প্রভাত সুখ শান্তির প্রতীক। এই সুখ-শান্তির সহজে লাভ করা যায় না। এটি পেতে হলে মানুষকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে কষ্টের সমুদ্র পাড়ি দিতে হয়। কাজেই বলা যায় দুঃখ-কষ্ট যতই তীব্রতর হয় সুখ-সমৃদ্ধি তত সহজে লাভ করা যায়। তাই লেখক যথার্থই বলেছেন রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে।
মন্তব্য: মানব জীবন বৈচিত্রময়। সুখ-দুঃখ হাসি-কান্না সমেত এ জীবন পরিচালিত হয়। দুঃখের পরেই আসে সুখ। আর পরিশ্রমের ফলেই আসে সফলতা। তাইতো বলা হয়ে থাকে, রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে।
আপনারা আমাদের এই ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন ধরনের ভাব সম্প্রসারণ ডাউনলোড করে নিয়ে আমাদের পরিশ্রম সার্থক করবেন। আপনাদের উপকারের জন্যই আমরা সর্বদা নিয়োজিত। আমরা চেষ্টা করেছি শিক্ষা বিষয়ের ওপর সকল তথ্য সুন্দর, সাবলীল ভাষায় এবং সমসাময়িক বিষয়গুলো আলোচনা করা। আপনারা বেশি বেশি করে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন এবং আমাদের পরিশ্রমকে সফলতা লাভের সহায়তা করুন।
Leave a Reply