প্রবন্ধ রচনা বাংলা ব্যাকরণ এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি এমন একটি বিষয় যা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরীক্ষায় বাধ্যতামূলকভাবে এই অংশটি এসে থাকে নির্দিষ্ট মার্কসের ভিত্তিতে। তাই আমাদের এই ওয়েবসাইটে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রবন্ধ রচনা গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র।
আমরা এখানে চেষ্টা করেছি রচনা প্রত্যেকটা অংশই আপনাদের সামনে তুলে ধরা তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা প্রতিটা অংশ যদি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে না পারি তবে সেগুলোর পয়েন্ট আউট করে দিয়েছে। সেগুলো আপনারা আপনাদের নির্দিষ্ট পাঠ্যপুস্তক দেখে আপনারা তৈরি করে নিবেন। আজকে আমরা যে রচনাটি নিয়ে আপনাদের সামনে আলোচনা করব সেটি নিম্নে দেওয়া হল:
বিশ্বায়ন
সংকেত: ভূমিকা-বিশ্বায়নের সংজ্ঞা-বিশ্বায়নের উৎপত্তি- বিশ্বায়নের উদ্দেশ্য-বিশ্বায়নের বৈশিষ্ট্য-বিশ্বায়নের কারণ-বিশ্বায়নের সুফল-বিশ্বায়নের কুফল-আমাদের করণীয়-উপসংহার।
ভূমিকাঃ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে বিশ্বায়ন। যার মাধ্যমে বিশ্ববাসী তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে নিজেদের নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছে। যার ফলে জাতি-রাষ্ট্রের ধারণাটি উঠে গিয়ে সমগ্র বিশ্ব একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে।
বিশ্বায়নের সংজ্ঞাঃ ‘বিশ্বায়নের’ ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Globalization যা Globe শব্দ থেকে এসেছে। সাধারণভাবে বলা যায় বিশ্বায়ন হলো একটি প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর মাঝে সমন্বয় সাধন হয়ে থাকে অথবা বিশ্বকে একীভূত করা হয়। বিশ্বায়ন বলতে বিশ্বজুড়ে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের সাম্প্রতিক অগ্রগতি কি বোঝানো হয়ে থাকে।
বিশ্বায়নের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে Red wood বলেন, “Globalization is the creation of single world market”. আবার মার্টিন আলব্রো বলেন- ‘বিশ্বায়ন হলো সামগ্রিক কমিউনিটির মধ্যে সমস্ত মানুষকে নিয়ে আসার একটি প্রক্রিয়া।’ সুতরাং বলা যায় বিশ্বায়ন হচ্ছে সীমারেখাহীন বিশ্বব্যবস্থা, যার দ্বারা বিশ্বে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক তৈরি হয়ে থাকে।
বিশ্বায়নের উৎপত্তিঃ ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর বিশ্বায়ন শব্দটির প্রচলন ঘটে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গত শতাব্দীর ৬০-এর দশকের শেষ দিকে ‘ক্লাব অব রোম’ অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপর পাশ্চাত্য মডেলের সীমাহীন প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে যে ঘোষণা দেয় সেখান থেকেই মূলত বিশ্বায়নের সূত্রপাত হয়। যার মাধ্যমে আজ বিশ্বে সৃষ্টি হয়েছে একই বিশ্বসীমানা ও একই বিশ্ব সম্প্রদায়।
বিশ্বায়নের উদ্দেশ্যঃ বিশ্বায়ন ধারণার মূল উদ্দেশ্য হলো বাজার সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন করা, সরকারি ব্যয় ও নিয়ন্ত্রণ হ্রাস এবং সরকারি সম্পত্তি ধারণার বিলোপ সাধন করে তা বেসরকারি আওতায় নিয়ে আসা।
বিশ্বায়নের বৈশিষ্ট্যঃ বর্তমান বিশ্বে বিশ্বায়ন প্রচন্ড গতিতে এগিয়ে চলছে। এর কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন-
- বিশ্বায়ন একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
- প্রযুক্তির দ্বারা বিশ্বায়ন নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
- বিশ্বায়ন একটি পরিবর্তনশীল বিষয়।
- বিশ্বায়ন নতুন কৌশলে নব্য উপনিবেশবাদের জন্ম দিয়েছে।
- বিশ্বায়ন সমস্ত বিশ্বের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে।
- বিশ্বায়ন সাম্রাজ্যবাদের ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে।
- বিশ্বায়ন উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
- একে অপরকে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তুলেছে অর্থাৎ FU, AU, ASEAN বিশ্বায়নের সৃষ্টি।
বিশ্বায়নের কারণঃ বিশ্বায়নের জন্য কোনো একক কারণ দায়ী নয় বরং এর পেছনে রয়েছে এক বা একাধিক কারণ। সেগুলো হলো -
তথ্য ও প্রযুক্তির বিকাশঃ
সমাজতন্ত্রের পতনঃ
গণতন্ত্রের প্রসারঃ
পরিবর্তনশীল সমাজব্যবস্থাঃ
বহুজাতিক সংস্থাঃ
বিশ্বায়নের সুফলঃ বিশ্বায়ন একটি আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার বেশ কিছু সুফল রয়েছে যা নিম্মরূপ-আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উন্নয়নঃ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিশ্বায়নের ফলে ইউরোপের দেশসমূহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠন করেছে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক জোট গড়ার মাধ্যমে বিশ্বে সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে।
মুক্তবাজার অর্থনীতির বিকাশঃ
বৃহদায়তন কর্মকান্ডের প্রসারঃ
জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয়:
যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নতিঃ
বিশ্বায়নের কুফলঃ বিশ্বায়নের সুফলের পাশাপাশি এর কিছু কুফলও লক্ষ্য করা যায়। সেগুলো হলো-
অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধিঃ
অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টিঃ
শিক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয়ঃ
গোপনীয়তা রক্ষা কঠিনঃ
সাংস্কৃতিক সংকটঃ
আমাদের করণীয়ঃ আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিশ্বায়নের এই তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে কতগুলো পদক্ষেপ নিতে হবে। যথা-
- তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে উৎসাহমূলক কর্মকান্ড ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
- জনশক্তির কর্মদক্ষতা বাড়ানোরবাড়ানোর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে।
- প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষিত বেকারদের কাজে লাগাতে হবে।
- সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনের শাসনের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
- দারিদ্র্য নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
উপসংহারঃ তথ্যপ্রযুক্তির অকল্পনীয় বিকাশের ফল হিসেবে বিশ্ব আজ যে যোগাযোগের স্থানে পৌঁছেছে—বর্তমানে অস্তিত্ব রক্ষা করতে চাইলে কোন দেশের পক্ষে এ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব নয়। আত্মরক্ষা এবং আত্মবিকাশ উভয় কারণেই বিশ্বকে আজ এগিয়ে যেতে হবে বিশ্বায়নের দিকে। বিশ্বায়ন আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছে নতুন এক প্রত্যাশার জগৎ, এক সম্ভাবনার জগৎ যার অধিকারী আমরা হতে পারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে অংশগ্রহণের ভেতর দিয়ে— সৃজনশীলতা ও কঠোর শ্রম এর মধ্য দিয়ে।

Leave a Reply