খলিফা শব্দের অর্থ কি

খলিফা শব্দের অর্থ কি

আমরা ইসলামের ইতিহাস বা ইসলাম সম্পর্কেও বিভিন্ন জ্ঞান অর্জন করতে হলে আমাদেরকে খলিফা শব্দটির সহিত পরিচিত হতে হয়। আরবি খেলাফত শব্দ থেকে এই খলিফা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আর এই আরবি খেলাফত শব্দটির বাংলা অর্থ হলো ‘প্রতিনিধিত্ব’। আর প্রতিনিধিত্ব হলো ইসলামী সরকার ব্যবস্থা। যা মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে এবং রাজনৈতিক একতার প্রতিনিধিত্ব করে থাকে।

আর এই ধরনের শাসন ব্যবস্থার সরকার প্রধানকেই বলা হয়ে থাকে ‘খলিফা’। আরবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম মদিনা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে বেড়ে ওঠেন। তারপর তিনি সেখানে অর্থাৎ মদিনা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে হীরা পর্বতের গুহায় যেন মগ্ন থাকেন। সেখানে ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় তার নিকট আল্লাহ চরিত্র ফেরেশতাগণ আছেন এবং তিনি নবুয়ত প্রাপ্ত হন। নগদ প্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি ইসলাম ধর্মের প্রচার করতে থাকেন।

এবং আস্তে আস্তে তার অনুসারীরা বৃদ্ধি পেতে থাকলে সেই ধর্মকে আরব থেকে আরও মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশে বিস্তার লাভ করতে থাকে। এবং এই বিস্তার লাভ করতে থাকে এবং মধ্যপ্রাচেন প্রায় সব দেশ একে একে ইসলামের পতাকা চলে আসলেন ইসলামী শাসন ব্যবস্থা জারি হতে থাকে। আর এই ইসলামী শাসনব্যবস্থার প্রধানকে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় প্রধান বা ক্ষমতার প্রধানকে খলিফা নামে ডাকা হতো। অর্থাৎ খলিফা আরবি শব্দ এবং এই আরবি শব্দটির বাংলা অর্থ হল প্রতিনিধি। আভিধানিক অর্থ হলো উত্তরাধিকারী, প্রতিনিধিত্বকারী, স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি, কর্মাধ্যক্ষ, জনসমষ্টির দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে ইসলামী পরিভাষায় খলিফা হলেন এমন একটি ব্যক্তি যিনি যাবতীয় বিষয়ে শরীয়ত অনুযায়ী সমস্ত উম্মতকে পরিচালিত করেন। অর্থাৎ ইসলামী পরিভাষায় রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্ব তিনি পালন করবেন তিনি খলিফা এবং এই খলিফা অবশ্যই ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক তার রাষ্ট্র দেশ সমাজ পরিচালনা করবেন। ইসলামী রাষ্ট্রগুলোতে খলিফাই হলো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী।

তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে গভর্নর, শাসক, নেতা, কাজী, নিযুক্ত করে থাকেন। এই সকল গাভর্নর নেতা শাসক কাজিরা অবশ্যই খলিফার আদর্শ এবং খলিফার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে থাকেন বাসায় অঞ্চলে শাসনভার গ্রহণ করে থাকেন। তবে ইসলামী শাসনে বা ইসলামী শাসনভার গ্রহণ করার অর্থাৎ ইসলামিক রাষ্ট্রের খলিফা হওয়ার জন্য অবশ্যই কিছু শর্তাবলী রয়েছে। এ সকল সত্তা বলি যদি পূরণ হয় তাহলেই তিনি খলিফা নিযুক্ত হতে পারেন। তাহলে এখন আমরা খলিফা হওয়ার শর্ত গুলি দেখে নেব।

কি কি শর্ত পূরণ করলে খলিফা হওয়া সম্ভব। ইসলামিক রাষ্ট্রের খলিফা হওয়ার জন্য শর্তাবলী গুলি হলো -তাকে মুসলিম হতে হবে, প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে, পুরুষ হতে হবে, স্বাধীন হওয়া। খলিফা হতে হলে ওই ব্যক্তিকে ন্যায়পরায়ণ হতে হবে, ওই ব্যক্তিকে বিবেক সম্পন্ন হতে হবে। জ্ঞান বা ইলম থাকতে হবে, উম্মাহ দরদী ও কাফেরদের সাথে আপোষহীন হতে হবে।

তাহলে আমরা দেখলাম যে একজন ব্যক্তিকে ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা হতে হলে কোন কোন যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এ সকল যোগ্যতা অর্জন না করতে পারলে কখনোই ইসলামী রাষ্ট্রের খলিফা বা ইসলাম দরদী ব্যক্তি হতে পারবে না। তাই সে সকল ইসলামিক রাষ্ট্র সম্মূহের যে সকল নেতা রয়েছে বা খলিফা হওয়ার স্বপ্ন দেখে তাদেরকে অবশ্যই এই গুণাবলী গুলি অর্জন করে তবেই খলিফা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।

কুরআনে নবী দাউদকে খিলাফত দেওয়া প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,”হে দাঊদ, নিশ্চয় আমি তোমাকে যমীনে খলিফা বানিয়েছি, অতএব তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করো, আর প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য কঠিন আযাব রয়েছে। কারণ তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গিয়েছিল।” (কুরআন ৩৮:২৬)
তাহলে আমরা দেখতে পেলাম যে খলিফা শব্দের অর্থ কি কাকে খলিফা বলা হয় এ সকল বিষয় সম্পর্কে যাবতীয় বিষয় আপনারা অবশ্যই আমাদের এই পোস্ট থেকে দেখে নিতে পারলেন।

About শাহরিয়ার হোসেন 4780 Articles
Shahriar1.com ওয়েবসাইটে আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় যা কিছু দরকার সবকিছুই পাবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*