ই পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন করার নিয়ম | ই – পাসপোর্ট অনলাইনের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন

ই পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন করার নিয়ম | ই - পাসপোর্ট অনলাইনের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন

যতই দিন অতিবাহিত হচ্ছে আমাদের জীবনের সকল ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি যেসব কাজ এসময়ে ভাবা হতো কোনভাবেই অনলাইনে করা সম্ভবপর নয় তাও আজ অনলাইনে করা সম্ভব হচ্ছে শুধু মাত্র প্রযুক্তির কল্যাণে। এমনকি এই সাম্প্রতিককালে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতেও আর পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

কেননা এখন ঘরে বসেই এই আবেদন ফরম পূরণ করা যায়। এককালে এই ফরম সংগ্রহ করার জন্য আবেদনকারীদের লাইন ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হতো। কিন্তু আজ আর তার প্রয়োজন নেই, মানুষজন ঘরে বসেই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। যদি সঠিক তথ্য প্রমাণসহ এই আবেদন করা যায়, তাহলে পাসপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ।

পাসপোর্ট এই সাম্প্রতিককালে একটি অপরিহার্য বস্তুতে পরিণত হয়েছে। যেহেতু, এই সময়ে অবৈধভাবে বিদেশে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা আগের চেয়ে বহু আংশে কমেছে এবং মানুষ এখন সকল নিয়ম নীতি মেনেই বিদেশে যেতে চায় তাই পাসপোর্ট এর চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে। আবার যারা কোনদিন বিদেশে যান নি, এবং কোন পরিকল্পনাও নেই সেসব মানুষ ও আজকাল পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করেন। কেননা, যেকোন সময়ই বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে৷

পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার জন্য প্রথম যেই কাজটি করতে হয় সেটি হলো আবেদন ফরম সংগ্রহ। এই ফরম পাওয়া যাবে নিকটস্থ যেকোন পাসপোর্ট অফিসে অথবা, অনলাইনে। স্মার্টফোনের বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে ‘বাংলাদেশ পাসপোর্ট অ্যাপ্লিকেশন অনলাইন’ লিখলেই একটি ওয়েবসাইট পাওয়া যাবে, যার ঠিকানা হলো: “epassport.gov.bd” এই উপরে উল্লেখিত ওয়েবসাইটে গেলেই আবেদনকারী একটি আবেদন ফরম পাবেন যা ডাউনলোড করে, প্রিন্ট করতে হবে এবং তারপর হাতে লিখে যেকোন নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে। তবে জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই পাসপোর্ট ফি প্রদান করে আসতে হবে যেকোনো ব্যাংকে। এই টাকাটি পরিশোধ করতে হয় চালানের মাধ্যমে৷

পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার সময় এই চালানের কপি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিয়ে হয়৷ কী কী কাগজ জমা দিতে হবে তার বিবরণ ফর্মেই লেখা থাকে। নির্দিষ্ট তারিখে টাকা জমার রশিদ ও আবেদন ফরম জমা দেওয়ার পর, শুরু হয় প্রক্রিয়া। পুলিশ ভ্যারিফিকেশন হলো সকল প্রক্রিয়ার মাঝে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ৷ আবেদনের কয়েকদিনের মাঝে পুলিশ আবেদনকারীর উল্লেখিত ঠিকানায় যেয়ে নিশ্চিত করে যে, যেই সব তথ্য দেওয়া হয়েছে সেগুলো সঠিক কি না। সঠিক থাকলে যথা সময়ে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। আর ভুল তথ্য দিলে পাসপোর্ট এর আবেদন বাতিল হয়ে যাবে এবং আবেদনকারী টাকা ফেরত পাবেন।

ই-পাসপোর্ট পেতে চাইলে মোটামুটি কয়েকটি ধাপ সতর্কতার সাথে পার হতে হয়। প্রথমত, আবেদনকারী যেই এলাকায় বসবাসরত আছেন সেখানে ই-পাসপোর্ট প্রদান করা শুরু হয়েছে কিনা। তারপর, অনলাইনের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট এর ফরম পূরণ। পাসপোর্ট এর জন্য নির্ধারিত ফি প্রদান করা৷ পুলিশ ভ্যারিফিকেশন এর সময় পুলিশের সাথে দেখা করা।

নির্দিষ্ট দিনে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হওয়া ছবি তোলার জন্য ও আংগুলের ছাপ প্রদান করার জন্য। শেষ ধাপটি হলো অফিস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা। পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে, পাসপোর্ট অফিস থেকে আবেদনকারীর কাছে ম্যাসেজ পাঠানো হয়। সেই ম্যাসেজ অনুযায়ী আবেদনকারীকে যেয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হয়।

পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করার সময় সকল আবেদনকারীকেই কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ৷ বিশেষ করে দালালদের হাত থেকে। দালালরা নতুন আবেদনকারী দেখলেই বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা বক্তব্যের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করতে তৎপির তারা। এইসব দালাল থেকে সাবধান হতে হবে। কারণ, এসব দালাল হলো প্রতারক। তাদের কোন ক্ষমতা নেই কাউকে পাসপোর্ট প্রদান করার। এসব দালাল টাকা নেওয়ার সময় অনেক কথা বললেও টাকা নেওয়ার পর আর কাউকে চেনে না। তাই সরকারি নিয়ম মেনে পাসপোর্ট করতে চেষ্টা করুন। দালালদের হাতে প্রতারিত হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

About শাহরিয়ার হোসেন 4780 Articles
Shahriar1.com ওয়েবসাইটে আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় যা কিছু দরকার সবকিছুই পাবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*