আমাদের এই ওয়েবসাইটে আপনাদেরকে স্বাগত জানাই। আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে শিক্ষামূলক বিভিন্ন তথ্য প্রচার করে থাকি। আমরা প্রতিদিনই কোন না কোন বিষয়ের উপর আলোচনা করে থাকি বিশেষ করে শিক্ষা বিষয়ক। আমরা আজ বাংলা ব্যাকরণের ভাব-সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করব। আপনারা ইচ্ছা করলে আজকে যে ভাব সম্প্রসারণ টি নিয়ে আলোচনা করা হবে সেটি ডাউনলোড করতে পারেন অথবা প্রয়োজনীয় অংশ আপনারা নিজেদের মনের মত করে পড়ে নিতে পারেন।
আজ আমরা যে ভাব সম্প্রসারণ ট্রে নিয়ে আলোচনা করব সেটি বিশেষ করে একাদশ-দ্বাদশ থেকে তদুর্ধ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের জন্য উপযোগী একটি ভাব সম্প্রসারণ। ভাব-সমপ্রসারন টি হল “অর্থ- সম্পদের বিনাশ আছে, কিন্তু জ্ঞান সম্পদ কখনো বিনষ্ট হয় না।” নিচে আমরা এই ভাব-সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম
ভাব সম্প্রসারণ:
অর্থ সম্পদের বিনাশ আছে, কিন্তু জ্ঞান-সম্পদ কখনো বিনষ্ট হয় না।’
মূল ভাব: জ্ঞানের সাথে ধনের কোন তুলনা নেই। প্রকৃত বিচারে অর্থবিত্তের চেয়ে জ্ঞানের মূল্য অনেক বেশি।
সম্প্রসারিত ভাব: জ্ঞান-সম্পদ দ্বারা নগদ লাভ দৃশ্যমান নয় বলে এ সম্পর্কে মানুষ অনাগ্রহী। কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতেই হবে যে, জীবনে অর্থ-সম্পদের যতই গুরুত্ব থাকুক না কেন, জ্ঞান-সম্পদের গুরুত্ব ততোধিক গুরুত্ববহ। পৃথিবীতে যে জাতি জ্ঞান-সম্পদে যত সমৃদ্ধ , সে জাতি বিশ্বে তত উন্নত বলে স্বীকৃত। জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সূর্যের মতোই ধ্রুব এবং মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে দৃষ্টি করে স্বচ্ছ, জাগ্রত করে বিবেক। জ্ঞানাগ্নি চিত্তের অজ্ঞানতাকে ভস্মীভূত করে পরিপূর্ণ পরিশুদ্ধ করে তোলে।
পৃথিবীর সকল দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পেছনে রয়েছে অর্থের অবদান। অর্থ-সম্পদ যতই শক্তির অধিকারী হোক জ্ঞান সম্পদ এর কাছে তা কিছুই না। কবিগুরু বলেছেন- ‘টাকা জিনিসটা ভালো নয়।…তাতে সুখের পরিবর্তে কেবল সামগ্রী পাওয়া যায়।’ কবি বলেছেন— সুখের জন্য আনন্দ আর আনন্দের জন্য জ্ঞান প্রয়োজন। জ্ঞান-সম্পদে সমৃদ্ধ মানুষ হয়ে ওঠে সংস্কৃত পরিশীলিত সম্পূর্ণ মানুষ। যা অর্থ দ্বারা কখনোই সম্ভব নয়।
অর্থ- বিত্তবান করে আর জ্ঞান করে হূদয়বান। মানবিক মূল্যবোধ তৈরির জন্যেও জ্ঞানের বিকল্প নেই। জ্ঞান মানুষকে দৃঢ়, সংশয়হীন, বিবেকী করে তোলে। অর্থ হারিয়ে যেতে পারে, বিনষ্ট হতে পারে, বিনাশ হতে পারে কিন্তু অন্তর্নিহিত জ্ঞান-সম্পদ কেউ কোনোভাবেই হরণ করতে পারে না। মহামানবগণ নানা ভাবে বলেছেন— ‘অর্থ ব্যয়ে হ্রাস পায়, জ্ঞান ব্যয়ে বৃদ্ধি পায়।’
জ্ঞান অবিনাশী শক্তি, যা দ্বারা মানুষ অর্থসহ নানান সম্পদে সম্পদশালী হতে পারে। কিন্তু অর্থ-সম্পদ বিত্তবান করলেও চিত্তের উন্নতি ঘটাতে পারে না। যুগেযুগে অবতীর্ণ মহামানবদের জীবন ও কর্ম অনুধ্যান করলে আমরা এই শিক্ষাই পাই। যে কোনো সময় যে কোনো কারণে রাজা ভিখিরি হতে পারে কিন্তু জ্ঞানীর জ্ঞান-সম্পদ বিনষ্ট হয় না। কারণ জ্ঞানের বিনাশ নেই , ক্ষয় নেই। জ্ঞানী সর্বত্র এবং সবযুগে সমভাবে সমাদৃত।
যশোরের রাজনারায়ণ দত্তের একমাত্র পুত্র মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিপুল বিত্ত-বৈভব হারিয়েও সাহিত্যে অমরত্ব লাভ করেছেন জ্ঞান-সম্পদের প্রাচুর্যের জন্য। বস্তুগত সম্পদ এক সময় কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, কিন্তু জ্ঞানসম্পদ চিরযৌবনা, চিরসমুজ্জ্বল। মহাত্মা গান্ধী যে দরিদ্র বাঙালিকে সম্মান করেছেন তাঁর নাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
এমন অনেক মনীষী আমাদের দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন, যাঁরা দারিদ্রকে উপেক্ষা করে জ্ঞান-সম্পদের দ্বারা জগতে স্মরণীয় হয়ে আছেন। যেমন- কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ম্যাক্সিম গোর্কি প্রমুখ। অর্থ-সম্পদ অনেকসময় বিভীষিকা হয়ে উঠতে পারে। জ্ঞানী যেমন নিজের জন্য নিরাপদ তেমনি অপরের জন্যেও মঙ্গলকর আমাদের জাতীয় মেধার বহুমুখী প্রয়োগ সুনিশ্চিত না হলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না।
জ্ঞানহীন মানুষ সাময়িকভাবে ধনী হয়ে উঠলেও তার সঞ্চিত ধন তাকে মানুষের মনে অমর করতে পারে না। অর্থ সুখ দিতে পারলেও অক্ষয় কীর্তির মর্যাদা অর্জনের নিবিড় সুহানুভূতি দিতে পারে না। অতিরিক্ত লাভ করে যে ব্যবসায়ী অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছে তার সেই প্রাচুর্য অপেক্ষা বিত্তহীন যে মেধাবী লেখক সুদীর্ঘসময় অপেক্ষার পর প্রাচুর্যের পরিবর্তে হাতে পায় তার প্রকাশিত পুস্তকটি তার সেই গৌরবময় অর্জন চির অক্ষয়।
মন্তব্য: সুতরাং আমাদের অর্থ-সম্পদ অপেক্ষা জ্ঞান-সম্পদ আহরণে অধিক মনোযোগী হওয়া উচিত। ব্যক্তিগত ও জাতীয় উভয় ক্ষেত্রেই মেধা ও মননের যথাযথ বিকাশ ও পরিচর্যার প্রতি আমাদের যত্নবান হওয়া অত্যাবশ্যক।

Leave a Reply