সহিংসতা মানে কি

সহিংসতা মানে কি

বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা শব্দটি উঠে আসার কারণে আপনারা হয়তো বুঝতে চেষ্টা করেন এই শব্দটি কোন অর্থে এবং কি কারণে ব্যবহার করা হয়েছে। আজকাল জোর যার মুল্লুক তার এই বিষয়টিকে সকলেই মাথায় রেখে নিজেদের মতো করে সহিংস আচরণ করে চলেছে। অর্থাৎ সহিংসতা হলো এক ধরনের জোর জবরদস্তি মূলক আচরণ যেটার মাধ্যমে অন্যের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এছাড়াও সহিংসতা মানে কি আপনাদের জন্য আমরা তা আলোচনা করব এবং বাস্তবিক জীবনে এটা কিভাবে একজনের প্রতি আরেকজন করে থাকে সেটা উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। তাই যে কোন পরিস্থিতিতে একজন মানুষ আরেকজনের প্রতি সহিংসা আচরণ করতে পারে এবং এগুলো কখনোই কাম্য নয়। তাই আপনার আচরণ যাতে অন্যের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে অথবা অন্যরা যাতে এটা খারাপ ভাবে গ্রহণ না করে সেই জন্য আমরা সবসময় ভদ্র আচরণ করব এবং সহিংসা আচরণ থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখব।

যখন আমরা কোন কিছু আদায় করার জন্য অন্যের প্রতি খারাপ ব্যবহার করে থাকি অথবা জোর জবরদস্তি মূলক আচরণ চালিয়ে থাকে অথবা তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করে থাকি তখন সেটাকে সহিংসামূলক আচরণ বলা হয়ে থাকে। সহিংসতা বলতে গেলে এক ধরনের অত্যাচারিত মনোভাব বুঝিয়ে থাকে।

অর্থাৎ আপনি কিভাবে সহিংস আচরণের শিকার হবেন তা যদি অন্য মানুষের খারাপ ব্যবহার দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন। স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি কোন একটা কাজে চেষ্টা করার পরেও যখন সফলতা অর্জন করতে পারলেন না তখন অন্যের যখন কটু কথা শুনতে হবে অথবা অন্যরা যখন আপনার দিকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তখন সেটা এক ধরনের সহিংসামূলক আচরণ কে প্রকাশ করে।

বর্তমান সময়ে পারিবারিকভাবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সামাজিকভাবে, কর্ম প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের সহিংসামূলক আচরণের ঘটনাগুলো আমরা ঘটতে দেখি। পরিবারে কোনো শিশু সন্তান যদি কথা না শুনে অথবা তাদেরকে ঠিকমতো খাওয়ানোর ব্যাপারে পিতা-মাতা যে স্বয়ংস মূলক আচরণ করে থাকে তাতে করে সেই শিক্ষার্থী অথবা শিশুর মনে নেতিবাচক প্রভাব

পড়ে যাওয়ার ফলে পরবর্তীতে তার বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা হয়। তাই পিতা মাতা হিসেবে সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার মাধ্যমে প্রত্যেকটি বিষয় বুঝিয়ে দিয়ে আমরা যখন সেই কাজ আদায় করে নিতে পারব তখন সেই কাজের আউটপুট যেমন ভালো পাওয়া যাবে তেমনি ভাবে সে শিশুর মানসিক অবস্থাও ভালো থাকবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যদি পড়ালেখা করতে না পারে তাহলে সেই শিক্ষার্থীকে বুঝিয়ে শুনিয়ে পড়াশোনা করার ব্যবস্থা করতে হবে অথবা বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাবে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে জোর জবরদস্তি মুলক আচরণ অথবা কোন বনভোজনের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক অংশগ্রহণ করানোর বিষয়গুলো অবশ্যই সহিংসামূলক আচরণের পর্যায়ে পড়ে।

এছাড়াও ইভটিজিং থেকে শুরু করে সামাজিকভাবে শিশুদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে হেয় প্রতিপন্ন করার বিষয়গুলো সহিংসামূলক আচরণের ভেতরে পড়ে যায়। তাই আজকের শিশু যেহেতু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ সেহেতু তাদের মানসিক বৃদ্ধির জন্য এবং মানসিক সুস্থতার জন্য ভালো ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে সেই পরিবেশ যদি শিশুর প্রতিকূলে হয়ে থাকে তারপরও তার জন্য এমন একটা পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেটার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মটা ভালোমতো গড়ে উঠতে পারে।

About শাহরিয়ার হোসেন 4779 Articles
Shahriar1.com ওয়েবসাইটে আপনার দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় যা কিছু দরকার সবকিছুই পাবেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*